প্রায় ১৩ বছর পর ফের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হতে চলেছে কলকাতার ঐতিহাসিক রাইটার্স বিল্ডিং। আগামী ৯ অক্টোবরের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, পাঁচ মন্ত্রী ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের দপ্তর প্রস্তুতের লক্ষ্য নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের পূর্ত দপ্তর।
২০১৩ সালের অক্টোবরে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সচিবালয় রাইটার্স বিল্ডিং থেকে নবান্নে সরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর ভবনটির বড় অংশ নিয়মিত প্রশাসনিক কাজের বাইরে ছিল।
গত শনিবার রাইটার্স বিল্ডিংয়ের কাজের অগ্রগতি নিয়ে বৈঠক করেন পূর্তমন্ত্রী অজয় পোদ্দার। মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয়ের কাজ প্রায় শেষ। মুখ্যসচিব ও রাজ্য পুলিশের ডিজির জন্যও পৃথক কক্ষ প্রস্তুত করা হচ্ছে।
দ্বিতীয় তলায় মুখ্যমন্ত্রীসহ পাঁচ মন্ত্রীর দপ্তর তৈরির কাজ চলছে। সেখানে পূর্তমন্ত্রী অজয় পোদ্দার, পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ, পর্যটন ও পরিষদীয় মন্ত্রী শংকর ঘোষ, স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় এবং পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের দপ্তর থাকার কথা।
রাইটার্স বিল্ডিংয়ের সামগ্রিক সংস্কারের দায়িত্ব আদানি গোষ্ঠীর হাতে দেওয়ার পরিকল্পনাও চলছে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। প্রায় ১২০ কোটি রুপি ব্যয়ে করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা বা সিএসআর উদ্যোগে সংস্কারে আগ্রহ দেখিয়েছে গোষ্ঠীটি। সংস্কার পরিকল্পনার জন্য স্থপতি ও সাবেক পশ্চিমবঙ্গ হেরিটেজ কমিশনের সদস্য রঞ্জন মিত্রকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
বর্তমান পর্যায়ের কাজে রাইটার্স বিল্ডিংয়ের ক্যাবিনেট রুম ও রোটান্ডা রাখা হয়নি। ফলে আপাতত ভবনটির আংশিক প্রশাসনিক ব্যবহার শুরু হচ্ছে।
ঐতিহাসিক স্থাপত্য অক্ষুণ্ণ রেখে সংস্কার করাই বড় চ্যালেঞ্জ। পূর্ত দপ্তরের দাবি, আগের সংস্কারে ইউরোপীয় টালিসহ ভবনের কিছু ঐতিহাসিক উপাদান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এবার প্রশাসনিক ব্যবহারের পাশাপাশি ভবনের ঐতিহ্য সংরক্ষণে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রায় আড়াইশ বছরের পুরোনো রাইটার্স বিল্ডিং বাংলার প্রশাসনিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ২০১৩ সালে সচিবালয় নবান্নে স্থানান্তরের পর এবার ধাপে ধাপে ভবনটিকে প্রশাসনিক কাজে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


