ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দুই দেশ স্পেন ও ইতালির মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। এর মধ্যে ইতালি থেকে আকাশ ও সমুদ্রপথে আসা সব যাত্রীর ওপর সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ কার্যকর করেছে স্পেন।
মধ্যরাত থেকে কার্যকর হওয়া এই ব্যবস্থা এক মাস বহাল থাকবে। বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহে মরক্কো থেকে প্রায় ৭৮ হাজার অভিবাসী স্পেনের ছিটমহল সেউতায় প্রবেশ করার পর ইতালি একই ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল। এর পরই স্পেন পাল্টা এই পদক্ষেপ নিল।
শুক্রবার মাদ্রিদ রোমকে রোববারের মধ্যে সীমান্তে তল্লাশি তুলে নেওয়ার দাবি জানায়। তবে ইতালি বলেছে, অন্তত ১৫ আগস্ট পর্যন্ত এই নিয়ন্ত্রণ বহাল থাকবে। দেশটির দাবি, ওই সময় সেউতায় ‘অভিবাসনের নতুন ঢেউ’ আসতে পারে বলে স্পেন আশঙ্কা করছে।
এই বিরোধে স্পেনের সমাজতান্ত্রিক প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ ও ইতালির রক্ষণশীল নেতা জর্জিয়া মেলোনি মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছেন। মেলোনি দীর্ঘদিন ধরে ইইউর অভিবাসন নীতি আরও কঠোর করার পক্ষে কথা বলে আসছেন।
স্পেনের সঙ্গে ইতালির কোনো স্থলসীমান্ত নেই। ইতালি বলেছে, সীমান্তে অবাধ চলাচলের সুযোগ দেওয়া শেনজেন চুক্তি স্থগিত করার উদ্দেশ্য হলো সেউতায় আসা অভিবাসীদের সেখান থেকে ইতালিতে চলে যাওয়া ঠেকানো।
তবে মাদ্রিদ এই যুক্তিকে তথ্যগত ভিত্তিহীন ‘অসার যুক্তি’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। স্পেন জোর দিয়ে বলেছে, সেউতায় প্রবেশ করা অভিবাসীদের শেনজেন এলাকায় প্রবেশের কোনো সুযোগ নেই।
স্পেনের দেওয়া হুমকির জবাবে ইতালি বলেছে, তারা কোনো ‘আলটিমেটাম’ মেনে নেবে না। অন্তত আগস্টের মাঝামাঝি পর্যন্ত ‘কোনো পরিস্থিতিতেই’ এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হবে না। একই সঙ্গে ইতালি বলেছে, দেশটির জন্য ‘নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবাদের ঝুঁকি পুরোপুরি দূর’ হওয়ার পরই সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করা হবে।
ইতালির কর্মকর্তারা আরও বলেছেন, তল্লাশির দায়িত্বে থাকা স্থানীয় কর্তৃপক্ষ স্পেন থেকে আসা স্প্যানিশ ও ইউরোপের অন্যান্য দেশের নাগরিকদের সর্বোচ্চ স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে ‘সম্ভাব্য সবকিছু’ করছে।


