আওয়ামী লীগ জন্মগতভাবেই ফ্যাসিস্ট: ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশন

আওয়ামী লীগ জন্মগতভাবেই ফ্যাসিস্ট: ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশন
ছবি: বাসস
Advertisement
Advertisement

আওয়ামী লীগ জন্মগতভাবেই ফ্যাসিবাদী আচরণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। ক্ষমতায় থাকাকালে দলটির কর্মকাণ্ডে তা বারবার প্রকাশ পেয়েছে বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দাবি করেছে প্রসিকিউশন।

মঙ্গলবার জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম এ দাবি করেন।

ট্রাইব্যুনাল-২-এ যুক্তিতর্কের শুরুতে তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন অপরাধ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তার দাবি, এটি ছিল পরিকল্পিত ও সারা দেশে সংঘটিত একটি ‘সিস্টেমেটিক ক্রাইম’।

১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সালের বিভিন্ন ঘটনার উল্লেখ করে তামিম বলেন, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক আচরণে ফ্যাসিবাদী প্রবণতা নতুন নয়। রক্ষীবাহিনী গঠন, বাকশাল প্রতিষ্ঠা ও তৎকালীন মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যার ঘটনা তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, স্বাধীনতার পর মানুষের অধিকার খর্ব করা হয়েছিল।

আরও পড়ুন

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষার্থীদের রাজাকার আখ্যা দেওয়ার পর ওবায়দুল কাদের ছাত্রলীগকে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেন। এরপর ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের হামলায় বহু মানুষ নিহত হন বলে আদালতকে জানান তিনি।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ, জুলাই-আগস্টের হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা, নির্দেশনা ও বাস্তবায়নে ওবায়দুল কাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। একই মামলায় আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মোহাম্মদ আলী আরাফাত, শেখ ফজলে শামস পরশ, মাইনুল হোসেন খান নিখিল, সাদ্দাম হোসেন ও শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানের বিরুদ্ধেও আন্দোলন দমনে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।

প্রসিকিউশনের ভাষ্য, পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা ‘অক্সিলিয়ারি ফোর্স’ হিসেবে আন্দোলন দমনে অংশ নেন। ওবায়দুল কাদেরকে ‘কমান্ড রেসপন্সিবিলিটি’র ভিত্তিতে আসামি করা হয়েছে বলেও আদালতকে জানানো হয়।

এর আগে ২ আগস্ট সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। গত ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। তারা পলাতক থাকায় রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী নিয়োগ দিয়ে তাদের অনুপস্থিতিতেই বিচার চলছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad