শিশুর সুস্থ বিকাশ নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার পাশাপাশি বাল্যবিয়ে, অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহার, জলবায়ু পরিবর্তন, মানসম্মত পরিচর্যার অভাব ও দুর্বল প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা মোকাবিলার তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
তাদের মতে, জন্মের পর পুষ্টি, পরিচর্যা, নিরাপদ পরিবেশ ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত না হলে শিশুর দীর্ঘমেয়াদি বিকাশ ব্যাহত হয়।
তারা স্বাস্থ্যব্যবস্থার সঙ্গে আর্লি চাইল্ডহুড ডেভেলপমেন্ট (ইসিডি) সেবা যুক্ত করা, শিশুবিষয়ক পৃথক বিভাগ গঠন, ইসিডি নীতিমালা হালনাগাদ এবং জলবায়ু সহনশীল শিশুবান্ধব নীতি প্রণয়নের সুপারিশ করেন।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ আর্লি চাইল্ডহুড ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্ক (বেন) ও প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত নীতি সংলাপে বক্তারা এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ ইসিডি নেটওয়ার্কের ভাইস চেয়ারপারসন মাহমুদা আক্তার বলেন, শিশুদের পেছনে এক ডলার বিনিয়োগ করলে দীর্ঘমেয়াদে ১৩ ডলার পর্যন্ত সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুফল পাওয়া যায়। অথচ দেশে শিশুদের স্টোরিবুক ব্যবহারের হার মাত্র ৬ শতাংশ। অল্প বয়সে মোবাইল ব্যবহারের কারণে নিউরোলজিক্যাল সমস্যা ও সেরিব্রাল পালসির ঝুঁকিও বাড়ছে।
মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, ‘শিশুর বিকাশের বড় বাধাগুলোর একটি বাল্যবিবাহ। দেশে এখনো ৫১ শতাংশ মেয়ের ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই বিয়ে হয়। এতে কম ওজনের শিশু জন্মের ঝুঁকি বাড়ে এবং শিশুর প্রারম্ভিক বিকাশ ব্যাহত হয়।’
ইউনিসেফ বাংলাদেশের চিফ অব এডুকেশন দীপা শঙ্কর বলেন, ‘২০১৩ সালের ইসিডি নীতিমালা বর্তমান বাস্তবতায় হালনাগাদ করা প্রয়োজন। নতুন নীতিমালায় জলবায়ু সহনশীলতা এবং প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহারে গুরুত্ব দিতে হবে।’
বাংলাদেশ ইসিডি নেটওয়ার্কের কোষাধ্যক্ষ সাইদুর রহমান মাশরেকি বলেন, বিদ্যমান ইপিআই ও মাতৃস্বাস্থ্য কর্মসূচির মাধ্যমেই সারা দেশে ইসিডি কার্যক্রম সম্প্রসারণ সম্ভব। তার ভাষায়, ‘শিশুদের শুধু বেঁচে থাকা নয়, সার্বিক বিকাশও নিশ্চিত করতে হবে।’
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, ‘শুধু আইন করলেই হবে না। শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তুলতে সরকার, উন্নয়ন সহযোগী, বেসরকারি খাত, গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।’


