ইসরায়েলি সেনাবাহিনী গাজার উত্তরের সঙ্গে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকরের ঘোষণায় ফিলিস্তিনিরা সেখানে ফিরে আসতে শুরু করেছেন। বিবিসি জানিয়েছে, যুদ্ধ চলাকালে ইসরায়েলি নির্দেশে গাজার দক্ষিণে স্থানান্তরিত হওয়া ফিলিস্তিনি নাগরিকরা এখন তাদের আগের ঘরবাড়ি ও অঞ্চল ফিরে যাচ্ছেন।
ইসরায়েলি ডিফেন্স ফোর্স (আইডিএফ) জানায়, তারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত পরিকল্পনার আওতায় চূড়ান্ত সীমান্তে ফিরে গেছে; তবে তাত্ক্ষণিক হুমকি মোকাবেলা করার জন্য তারা তাদের সামরিক তৎপরতা অব্যাহত রাখবে। ইসরায়েলের পক্ষ থেকে বলা হয়, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও হামাসের বিরুদ্ধে অভিযান বন্ধ করা হয়নি।
এই যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী, ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসকে সোমবার দুপুর ১২টার (বাংলাদেশ সময় ১০টা) মধ্যে সমস্ত ইসরায়েলি আটক বন্দী মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ইসরায়েলও কয়েক শ’ ফিলিস্তিনি বন্দীকে মুক্তি দেবে। দুই পক্ষের মধ্যে বন্দী বিনিময়ের এই চুক্তি গাজায় মানবিক সহায়তা পাঠানোর পথ সুগম করবে। এই চুক্তি অনুযায়ী, প্রথম ধাপে সহায়তা ট্রাক গাজার দুই মিলিয়ন মানুষকে প্রয়োজনীয় সাহায্য পৌঁছে দিতে শুরু করবে।

ইসরায়েলি সরকারের অনুমোদন প্রাপ্ত চুক্তির প্রথম ধাপ অনুযায়ী গাজার বাসিন্দাদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা এবং বন্দী বিনিময়ের মাধ্যমে উত্তপ্ত পরিস্থিতির শান্তিপূর্ণ সমাধান সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আল জাজিরার খবরে বলা হয়, ইসরায়েলি সেনা সরে যাওয়ায় উপত্যকার পশ্চিমাঞ্চলে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নেওয়া ফিলিস্তিনিরাও গাজা সিটি এবং মধ্য গাজায় ফিরতে শুরু করেছেন।
অন্যদিকে মধ্য গাজার নুসাইরাত শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেওয়া বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলো উপত্যকার উত্তরে সরে যেতে শুরু করেছেন। তবে তারা এখনও নেৎজারিম করিডোরে প্রবেশের অনুমতি পাননি। উত্তর গাজার এই অঞ্চল থেকেই গাজায় অভিযান পরিচালনা করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।
নিজ নিজ ঘরে ফেরার তাগিদে উত্তর গাজার বাসিন্দারা নেৎজারিম থেকে শেষ ইসরায়েলি ট্যাংক এবং সেনাকে সরিয়ে নেওয়ার অপেক্ষা করছেন। গাজার সিভেল ডিফেন্সও শেষ ইসরায়েলি সেনা গাজা থেকে প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে।
অবশ্য স্থানীয়দের বরাতে আল জাজিরা জানিয়েছে, শুক্রবার সকাল থেকেই ওই অঞ্চলে ইসরায়েলি ড্রোন, যুদ্ধবিমান এবং সমুদ্রে নৌবাহিনীর জাহাজের কঠোর নজরদারি ও তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে।
এদিন সকালেই গাজায় যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নে হামাসের সঙ্গে চুক্তির অনুমোদন দেয় ইসরায়েলি মন্ত্রিসভা। তবে এরপর পরই দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস ও উত্তর গাজার একাধিক স্থানে বোমা হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।


