একাত্তরে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নির্যাতনকারীরাই নবরূপে নির্বাচনে ফিরেছেন–এমন অভিযোগ করেছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, একাত্তরে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় যারা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ওপর নির্যাতন চালিয়েছিল, তারাই নবরূপে ফিরে এসে আবার নির্বাচনে দাঁড়িয়েছে।
শুক্রবার কক্সবাজার জেলার পেকুয়া সদরের বিশ্বাসপাড়ায় হিন্দু-বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ অভিযোগ করেন। তিনি কক্সবাজার-০১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী।
সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, যারা স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেনি, যারা স্বাধীনতা চায়নি; তারাই একাত্তরে এ দেশের সনাতন ধর্মাবলম্বী ভাই-বোনদের ওপর সবচেয়ে বেশি নির্যাতন চালিয়েছে। সেই ইতিহাস তাদের পূর্বপুরুষরা ভালোভাবে জানেন।
জামায়াতে ইসলামীর প্রতি ইঙ্গিত করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধকালে একটি ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলের হাতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের চরম ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছিল।’ এই লোকদের হাতে এ দেশের নাগরিকেরা, বিশেষ করে সংখ্যালঘুরা, আদৌ নিরাপদ কি না–এমন প্রশ্ন তোলেন তিনি।
বিএনপির শাসনামলে এ দেশে সকল ধর্মের মানুষ নিরাপদ ছিল উল্লেখ করে তিনি জানান, জিয়াউর রহমান ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছিলেন। তিনি এই ভূখণ্ডে বসবাসকারী সবাইকে ‘বাংলাদেশি’ পরিচয় দিয়েছিলেন দাবি করেন সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, আমরা কোনো জাতিগত বিভাজন, ধর্মীয় বিভাজন কিংবা বর্ণ বিভাজনে বিশ্বাস করি না। আমরা সবাই মিলে বাংলাদেশি হিসেবে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে চাই।
মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশ্বাসপাড়া পূজা উদযাপন পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক চন্দময় বিশ্বাস তিল। এ সময় আরও বক্তব্য দেন পেকুয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি বাহাদুর শাহ, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কামরান জাদীদ মুকুট, বিশ্বাসপাড়া কেন্দ্রীয় দুর্গা মন্দিরের সভাপতি শিমুল বিশ্বাস, উপজেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক রমেশ বিশ্বাস, উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি সুমন বিশ্বাস প্রমুখ।


