অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বিএনপি রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে অঙ্গীকার করলেও এখন তারা কোন পথে হাঁটবে তা স্পষ্ট নয়। দলটির যে ৩১ দফা, সেখানেও এ বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো ঘোষণা নেই। আর নেতারা বলছেন, এখানে সুযোগ সীমিত। ১৯৯১ সালে বাংলাদেশ সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় ফেরার পর থেকে রাষ্ট্রপতিকে প্রায় সব ক্ষেত্রেই প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ীই কাজ করতে হয়। এমনকি তার বক্তব্য বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সরকার লিখে দেয়। তবে সংবিধানের ধারাগুলো প্রধানমন্ত্রীকে একচ্ছত্র ক্ষমতা দেওয়ায় এ নিয়ে সমালোচনা আছে। রাষ্ট্রপতি অবশ্য সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান, যদিও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় প্রধানমন্ত্রীর অধীনে থাকে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ভারসাম্য আনার বিষয়ে আলোচনা হয় জাতীয় ঐক্যমত কমিশনে। সেখানে…
Author: মোশাররফ হোসেন বাবলু
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে তৈরি হওয়া জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে অভ্যুত্থান পরবর্তী রাজনীতিতে দুই প্রধান দল বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে জুলাই সনদের ওপর যে গণভোট হয়েছে, তার ফলাফল মানতে চাইছে না বিএনপি, বিরোধীদের দাবি অগ্রাহ্য করে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনেও আগ্রহ দেখায়নি ক্ষমতাসীনরা। ক্ষমতাসীন বিএনপি শেষ পর্যন্ত সনদের কোন কোন বিষয় কীভাবে বাস্তবায়ন করবে এবং এ বিষয়ে দলীয়ভাবে কী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়, তা নিয়ে আলোচনা ক্রমেই বাড়ছে। যদিও দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব শুরু থেকেই বলে আসছেন, জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে গৃহীত জুলাই সনদের প্রতি বিএনপি অঙ্গীকারবদ্ধ এবং জনগণের সঙ্গে করা প্রতিশ্রুতি থেকে দল সরে…
নানা জল্পনা-কল্পনার পর অবশেষে তিন বছরেরও বেশি সময় আগে আওয়ামী লীগ শাসনামালে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেছেন। এরপর ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পেয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তবে এটি হুট করে ঘটা কোনো ঘটনা নয়। সরকারের সূত্রগুলো বলছে, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সাহাবুদ্দিনকে পদে বহাল রাখা হবে কি না, তা নিয়ে দলটির নীতিনির্ধারকদের মধ্যে আলোচনা চলছিল। বিষয়টি তিনি নিজেও জানতেন। শেষ পর্যন্ত অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তার পদত্যাগ—বিএনপি সরকার ও রাষ্ট্রপতি, উভয় পক্ষের জন্যই একটি সম্মানজনক সমাধান হিসেবে সামনে এসেছে। বিএনপি ও রাষ্ট্রপতির মধ্যে সমঝোতার ভিত্তিতেই শেষ পর্যন্ত সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেছেন বলেও নিশ্চিত করছেন নেতারা। এর ফলে একদিকে নতুন…
সংবিধান সংশোধন নিয়ে সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে যে মতভেদ দেখা দিয়েছে, তাতে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে নতুন জটিলতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কেবল সংস্কার নয়, নির্বাচনকালীন সরকারব্যবস্থা ও সংবিধান সংশোধন নিয়েও সরকারি দল ও বিরোধী দলের নেতাদের অবস্থান প্রায় মুখোমুখি পর্যায়ে চলে গেছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বর্ষপূর্তিতে বর্তমান বাস্তবতায় দুই প্রধান রাজনৈতিক শক্তি বিএনপি ও জামায়াতে এমন বিরোধিতা নিয়ে আলোচনা চলছে। সংসদে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় তাদের একার পক্ষেই যে কোনো সংশোধনী করা সম্ভব। তবে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর উদ্ভুত পরিস্থিতিতে একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন বলেও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলে আসছেন। বিএনপি অবশ্য আশা করছে, জামায়াত-এনসিপি জোট রাজপথে আন্দোলনের হুমকি দিলেও…
আগামী বছরের শুরুতে দলীয় জাতীয় কাউন্সিল করার লক্ষ্য নিয়ে সাংগঠনিক কাজ আরও গতিশীল করার উদ্যোগ নিচ্ছে বিএনপি। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগেই দলের ভেতরের কোন্দল মেটানো, তৃণমূলের শক্তি বাড়ানো এবং নেতাকর্মীদের মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় করতে পুনর্গঠন করা হচ্ছে বিএনপিসহ এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি একাধিক বৈঠকে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্বশীল নেতাদের এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। এরই মধ্যে দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর মেয়াদ শেষ হওয়া কমিটিগুলো নতুন করে গড়ার কাজ শুরু হয়েছে। চলতি মাসেই জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে। এ ছাড়া জাতীয় সংসদের চলতি বাজেট অধিবেশন…
স্বেচ্ছাসেবক দলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন ঘিরে বিএনপির বিভিন্ন স্তরে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। দলীয় কার্যক্রম আরও গতিশীল করা, তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোকে পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে নতুন নেতৃত্ব আনতে যাচ্ছে বিএনপি। ইতোমধ্যে পদপ্রত্যাশী নেতাদের মধ্যে ব্যাপক লবিং-তদবির শুরু হয়েছে। বিএনপির একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। দলের হাইকমান্ড সম্ভাব্য শীর্ষ নেতাদের সাংগঠনিক সক্ষমতা, আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, তৃণমূল গ্রহণযোগ্যতা এবং অতীত রাজনৈতিক ত্যাগের বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে যাচাই-বাছাই করছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী জুন মাসের মধ্যে নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা হতে পারে। দলের অভ্যন্তরে ‘এক নেতার এক পদ’ এই…
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দেশে ফিরতে চাইলেও তা চায় না ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকার। তারা মনে করে, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে আবারও সংঘাতময় হয়ে ওঠতে পারে রাজনীতি। আর সরকারকে তেমন অরাজক পরিস্থিতিতে ফেলার সুযোগের অপেক্ষায় আছে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী। তাই বিএনপি সরকার শেখ হাসিনার এই ‘ফাঁদে পা’ দেবে না। তাই শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরার ট্রাভেল পাস দেওয়ারও কোনো সম্ভাবনা নেই। বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর একাধিক সিনিয়র নেতা, কূটনীতিবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের সঙ্গে আলাপ করে বিএনপি সরকারের এই মনোভাব জানতে পেরেছে টাইমস অব বাংলাদেশ। গত সপ্তাহে টাইমস অব বাংলাদেশে’র কাছে আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা জানান, শেখ হাসিনা তাদের…
ঘটনার শুরু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতাদের দৌড় দিয়ে, পরে তা এখন বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন পেরিয়ে এক প্রতিমন্ত্রী পর্যন্ত পৌঁছেছে। প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমানের গাড়ির পাশে নেতাকর্মীদের দৌড়ে চলার একের পর এক দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা, ব্যঙ্গ ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। দলের ভেতরেও অনেকে একে নেতার দৃষ্টি কাড়ার প্রতিযোগিতা হিসেবে দেখছেন। দুই দশক পর বিএনপির ক্ষমতায় ফেরা এবং ১৭ বছর পর তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তনের উচ্ছ্বাস এখনো দলজুড়ে প্রবল। আওয়ামী লীগ কার্যত সক্রিয় রাজনীতির বাইরে চলে যাওয়া এবং জামায়াতে ইসলামীকে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে না দেখার কারণে দলের নেতাকর্মীদের বড় একটি অংশ এখন দলীয় প্রধানের নজরে আসতেই…
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল নেতাদের একটি দৌড়ের মাধ্যমে যে ঘটনার শুরু হয়েছিল, তা এখন বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ-সংগঠনের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। এমনকি এই দৌড়ে শামিল হয়েছেন একজন প্রতিমন্ত্রীও। প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমানের গাড়ির পাশে দলের নেতাদের এভাবে বারবার দৌড়ানোর দৃশ্য দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা, সমালোচনা ও হাসির খোরাক জুগিয়েছে। একে ব্যক্তিগতভাবে মনোযোগ আকর্ষণের প্রতিযোগিতা হিসেবে বর্ণনা করছেন দলের ভেতরের অনেকে। দীর্ঘ দুই দশক পর বিএনপির ক্ষমতায় ফেরা এবং ১৭ বছর প্রবাস জীবন কাটিয়ে তারেক রহমানের বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে দলের মধ্যে এখনো এক ধরনের তুমুল উচ্ছ্বাস কাজ করছে। বর্তমানে সক্রিয় রাজনীতিতে অনুপস্থিত অন্যতম বড় দল আওয়ামী লীগ। আরেক উল্লেখযোগ্য…
দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র তিন মাসের মধ্যেই নানা চাপ, সমালোচনা ও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ধীরগতি, প্রশাসনিক সমন্বয় সংকট, নতুন মন্ত্রীদের অভিজ্ঞতার অভাব এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে। একই সঙ্গে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের নানা অনিশ্চয়তা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সরকারের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্র পরিচালনার এই প্রাথমিক ধাক্কা সামলে জনগণের আস্থা ধরে রাখাই এখন নতুন প্রশাসনের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দীর্ঘ ১৬ বছর আন্দোলন-সংগ্রামের পর বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরে আসায়…

