বিএনপির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হচ্ছে সোমবার। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর নতুন প্রেক্ষাপটে ফ্যাসিবাদ মুক্ত আবহে হতে যাচ্ছে এই দিবস। দলের শীর্ষ নেতাদের প্রত্যাশা, ‘তারেক রহমান শিগগিরই দেশে ফিরে দায়িত্ব নেবেন দলের।’ নেতাকর্মীদের চাওয়া, মুক্ত পরিবেশে আবারো ঘুরে দাঁড়াবে জাতীয়তাবাদী দল। তবে দলের অভ্যন্তরীণ সংকট ও নেতৃত্বের অভাবে সেই উদযাপন নেতাকর্মীদের জন্য অনেকটা হতাশার। ২০০৬ সালের পর থেকে ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি গত ১৭ বছর ধরে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও আইনি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে, দলের নেতাকর্মীরা একাধিক মামলায় অভিযুক্ত হওয়ায়, তারা আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে কোনো শক্তিশালী আন্দোলন গড়ে তুলতে পারেনি। সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের নেতৃত্বাধীন আপিল…
Author: মোশাররফ হোসেন বাবলু
রাজনৈতিক দলগুলোর মতবিরোধে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে জুলাই সনদের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনুসের নির্দেশনায় জাতীয় ঐকমত্য কমিশন (এনসিসি) সনদ প্রণয়নের প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ ও দৃশ্যমান রাখতে কাজ করছে। তবে জুলাই সনদের প্রশ্নে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)সহ বেশ কিছু রাজনৈতিক দল আটটি বিষয়ে এখনও গুরুতর মতবিরোধে রয়েছে। আর প্রস্তাবিত সুপারিশের বাকী ১২টি বিষয়ে সকল পক্ষ পৌঁছাছে মতৈক্যে। তবে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি আলী রীয়াজ আশাবাদ প্রকাশ করে বলেছেন, ‘৩১ জুলাইয়ের মধ্যেই আমরা চূড়ান্ত খসড়ায় পৌঁছাতে চাই। এতদিন ধরে যে ধারাবাহিক আলোচনা হয়েছে, তার ফলাফল স্পষ্টভাবে তুলে ধরাই আমাদের লক্ষ্য।’ মঙ্গলবার রাজধানীর…
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান জাতীয় নির্বাচনের রোডম্যাপ ও ঐকমত্যভিত্তিতে জুলাই সনদ ঘোষণার পর দেশে ফিরবেন বলে দলটির নেতারা আশা করছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস শিগগিরই এ দুটি প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করবেন বলেও বিএনপির পক্ষ থেকে ধারণা দেওয়া হয়েছে। বিএনপি নেতারা বলছেন, প্রধান উপদেষ্টা আগামী ৫ আগস্ট জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন এবং ওই ভাষণেই নির্বাচনী রোডম্যাপের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে। এর আগেই জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের নেতৃত্বে জুলাই সনদের চূড়ান্ত খসড়া রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সম্পন্ন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দলের শীর্ষ নেতারা জানান, রোডম্যাপ এবং জুলাই সনদ ঘোষণার পরই তারেক রহমানের দেশে ফেরার দিন-তারিখ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা…
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আস্থা হারানোয় বিএনপি নেতৃত্বের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে সংসদ নির্বাচন আয়োজন নিয়েও নেতারা কিছুটা সন্দিহান। তাদের অভিযোগ, সরকার নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণার প্রশ্নে অহেতুক কালক্ষেপণ করছে। এর নেপথ্যে ষড়যন্ত্রের অভিযোগও দেখছেন তারা। বিএনপির অনেক শীর্ষ নেতা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় নির্বাচনের আয়োজন এবং সংখ্যানুসারে আসন বন্টন (পিআর সিস্টেম)—ইত্যাদি ইস্যু আসলে নির্বাচন স্থগিতের আভাস । অবশ্য অন্তর্বর্তী সরকার বারবার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, নির্বাচন যথাসময়েই হবে। এরপরেও প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের দেওয়া প্রতিশ্রুতি নিয়ে বিএনপি এখনো সন্দিহান। তাদের আরও অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) কোনো নির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রদান করা হয়নি। এ নিয়ে দলের সর্বোচ্চ…
অব্যাহত অস্থিরতা সামাল দিতে না পেরে রাজনৈতিক দলগুলোর সহায়তা চেয়েছে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। এক বছর আগে গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ ফের দেশের নাজুক রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে পারে- এই শঙ্কায় সরকার এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সম্প্রতি গোপালগঞ্জে রক্তাক্ত সংঘর্ষ, উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল ও কলেজে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত এবং সচিবালয়ে বিক্ষোভকারীদের প্রবেশ- এই ঘটনাগুলো সরকারকে পুরোপুরি অপ্রস্তুত করে ফেলেছে। এতে সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং শাসনব্যবস্থা বজায় রাখার সক্ষমতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক নেতারা। তাদের মতে, ক্রমবর্ধমান বিশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার মুখে সরকার রাজনৈতিক চাপে পড়েছে এবং এ অবস্থায় সব দলের সহায়তা ছাড়া তাদের সামনে তেমন…

