জাতীয় সংসদের কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, ‘আমি এই সংসদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত। আজ একে অপরকে কথা বলার সুযোগ যেভাবে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা দেখেছি, এটি সংসদের জন্য ভালো লক্ষণ নয়।’
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি এসব কথা বলেন।
স্পিকার বলেন, অনেক কষ্টের বিনিময়ে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখার দায়িত্ব প্রতিটি সংসদ সদস্যের। তিনি সবাইকে ‘রুলস অব প্রসিডিউর’ পড়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, স্পিকার কথা বলার সময় সবাইকে বসে শুনতে হয়। আইন ও বিধি না মানলে সংসদ দীর্ঘদিন চলতে পারবে না।
এর আগে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘স্পিকার, এটা প্রশ্ন হলো, না পল্টনের বক্তৃতা হলো, বুঝতে পারিনি।’ এ মন্তব্যের পর সংসদে হট্টগোল শুরু হয়।
পরিস্থিতি শান্ত করতে স্পিকার বলেন, সংসদে প্রত্যেক সদস্যের কথা বলার স্বাধীনতা রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমি দেখলাম বিরোধীদলীয় নেতা যখন দাঁড়ালেন, তখন তার পেছনে সবাই দাঁড়িয়ে গেল। কাউকে বসানোই গেল না। সংসদ হলো যুক্তি ও বক্তব্যের মাধ্যমে মতের বিরোধিতা করার জায়গা, বিশৃঙ্খলা তৈরির নয়।’
স্পিকার আরও বলেন, ‘আজ বিরোধীদলের উত্থাপিত প্রস্তাব আমি খতিয়ে দেখব। তবে কারও কথা বলার স্বাধীনতা হরণ করা যাবে না। শব্দ করে বিচারের বাণীকে স্তব্ধ করা যাবে না। আমাকে সংসদ পরিচালনা করতে দিন। আমি আমার জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা দিয়ে সংসদ পরিচালনার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।’
দীর্ঘ সংসদীয় অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘গত ৪০ বছর ধরে আমি জাতীয় সংসদের সঙ্গে যুক্ত। অতীতে বাংলাদেশের সংসদের ইতিহাসে অনেক খারাপ নজির রয়েছে। এমনকি একজন স্পিকারকে হত্যার ঘটনাও ঘটেছে। সেই তুলনায় আমরা এখন অনেক ভালো সংসদ পেয়েছি। উভয় পক্ষকে ধৈর্য ও সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানাই।’
সংসদের শৃঙ্খলা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও গণতান্ত্রিক চর্চা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন স্পিকার। তিনি সংসদ সদস্যদের বিধি মেনে দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানান।


