গাইবান্ধায় সদর উপজেলায় মা-ভাইয়ের সঙ্গে ঝগড়া করে গাছের মগডালে উঠে পড়েছিলেন এক নারী। ভেবেছিলেন আত্মহত্যা করবেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। কিন্তু মগডাল থেকে আর নামতে পারছিলেন না তিনি। পরে খবর দেওয়া হয় ফায়ার সার্ভিসকে, বাহিনীর সদস্যদের চেষ্টায় দুই ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হয় ওই নারীকে।
এতসব কাণ্ড যিনি ঘটিয়েছেন, তার নাম মালতি বেগম (৩০)। সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামের শুক্কুর মোড় এলাকার বাসিন্দা তিনি। বাবার নাম আব্দুল মান্নান।
শনিবার দুপুরে তার ছোট্ট একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।
সেই ভিডিওতে দেখা যায়, এক নারী বাঁশ ঝাড়ের মধ্যে থাকা একটি গাছের সাহায্যে উপরে উঠেছেন। তাকে একটি বাঁশগাছের ওপর দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। নিচ থেকে তার মা বারবার নামতে বললেও তিনি নামছিলেন না।
রোববার খোঁজ নিয়ে জানা গেল, বেশ কয়েক বছর আগে সাত বছর বয়সী একটি মেয়ে সন্তানসহ মালতিকে ফেলে চলে যান তার স্বামী। এর পর থেকে মালতি ঢাকার একটি গার্মেন্টস কোম্পানিতে চাকরি করছিলেন মালতি। রোজার আগে বাড়ি ফিরে আসেন তিনি। এসময় মা ও দুই ভাইয়ের সঙ্গে তার কথাকাটাকাটি হয়, মা-ভাইয়েরা তাকে বাড়ি ছাড়তে মারধর করেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
তবে এতসব কিছুর পরেও মালতি বাবার বাড়িতেই ছিলেন। শনিবার অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণে আত্মহত্যা করতে গাছে উঠে পড়েন তিনি। কিন্তু এরপর সেখানে আটকা পড়েন।
এক পর্যায়ে ছোট ভাই আরিফুল ফায়ার সার্ভিসে ফোন দিলে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন বলে জানান গাইবান্ধা ফায়ার সার্ভিস স্টেশন অফিসার রিফাত আল মামুন।
কেন গাছের গাছের মগডালে উঠেছিলেন জানতে চাইলে মালতি বলেন, ‘বাড়ি থেকে তাড়ানোর জন্য মা ও দুই ভাই মারধর করে ও বাজে বাজে কথা বলেন। এজন্য গাছের উঠেছিলাম।’


