যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ফের নতুন করে আলোচনা শুরুর সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় সোমবার এশিয়ার বাজারে লেনদেন শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম পাঁচ শতাংশের বেশি কমেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার রাতে ইরানে হামলার পর আর কোনো নতুন বিমান অভিযান চালানো হয়নি। আবার শুক্রবারের পর থেকে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে নতুন হামলা চালায়নি।
বার্তা সংস্থা এএফপি’র খবরে বলা হয়, টানা দুই রাত ধরে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সামরিক হামলা না হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। ফলে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনা এখনও উন্মুক্ত রয়েছে বলে তারা মনে করছেন।
সম্প্রতি দুই সপ্তাহের হামলা-পাল্টা হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আপাতত সামরিক পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকায় কূটনৈতিক সমাধানের আশা জোরালো হয়েছে। এতে বিনিয়োগকারীরা হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনাও দেখছেন।
আন্তর্জাতিক মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত ব্রন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে পাঁচ দশমিক ৫৮ শতাংশ কমে ৯১ দশমিক ৩৮ মার্কিন ডলারে নেমে এসেছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের মানদণ্ড ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের প্রতি ব্যারেলের দাম পাঁচ দশমিক ৪৬ শতাংশ কমে ৮৪ দশমিক ৪৩ মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, তেলের দাম কম থাকলে বিষয়টি ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য রাজনৈতিকভাবে স্বস্তিদায়ক হতে পারে। কেননা মধ্যবর্তী নির্বাচনের আর অল্প কিছুদিন বাকি, রিপাবলিকান পার্টি কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার লড়াইয়ে আছে।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও না বাড়লে এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে আলোচনা শুরু হলে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ কমতে পারে। এর প্রভাব আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে পড়তে শুরু করেছে।


