দেশে জঙ্গিবাদের কোনো অস্তিত্ব নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ‘বিগত ফ্যাসিবাদী সরকার রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলে এই শব্দটিকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতো।’
মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে কোস্ট গার্ড সদর দপ্তরে বাহিনীর ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও কোস্ট গার্ড দিবস-২০২৬ উদযাপন উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
দেশে জঙ্গি তৎপরতা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘কিছু উগ্রবাদী বা র্যাডিক্যাল গ্রুপ সব দেশেই থাকে, তবে তা নিয়ন্ত্রণে সরকার সতর্ক রয়েছে।’
‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে যদি শৃঙ্খলা পরিপন্থী বা নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ওঠে, তবে বাহিনীর নিজস্ব ইন্টেলিজেন্স উইংয়ের মাধ্যমে তা খতিয়ে দেখা হয় এবং প্রচলিত সামরিক বা বিভাগীয় আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এটি একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া’, যোগ করেন সালাহউদ্দিন আহমদ।
‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় মোতায়েনকৃত সেনাসদস্যদের পর্যায়ক্রমে ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন,’আমরা গ্র্যাজুয়াল উইথড্রয়ালের (ধাপে ধাপে প্রত্যাহার) মধ্যে আছি। হঠাৎ পুরো ফোর্সকে প্রত্যাহার করা যায় না। শিগগিরই মোতায়েনকৃত সেনাসদস্যের সংখ্যা খুব সীমিত পর্যায়ে নিয়ে আসা হবে।’
এর আগে কোস্টগার্ডের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকের অনুষ্ঠানে মন্ত্রী জানান, দেশের সমুদ্র ও উপকূলীয় এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডকে আরও আধুনিক বাহিনীতে রুপান্তর করতে ভবিষ্যতে বুলেটপ্রুফ হাই-স্পিড বোট ও হেলিকপ্টার যুক্ত হবে। তিনি বলেন, ‘কোস্ট গার্ড আজ আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছে। এই বাহিনীকে একটি আধুনিক, শক্তিশালী ও যুগোপযোগী বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে বর্তমান সরকার সব ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে।’
‘বর্তমানে অপরাধীদের কৌশল ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বেড়েছে। দুর্বৃত্তরা এখন ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাদের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। তাদের মোকাবিলায় কোস্টগার্ডকেও সমভাবে প্রযুক্তিগতভাবে দক্ষ ও আধুনিক সম্পদে সজ্জিত হতে হবে। এজন্য বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং বাহিনীর কাঠামোগত সংস্কারের কাজ হাতে নেওয়া হবে’, উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
‘গার্ডিয়ান অ্যাট দ্য সী’ মুলমন্ত্রে ১৯৯৫ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার হাত ধরে যাত্রা শুরু করে সমুদ্র ও উপকুলীয় নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনী কোস্ট গার্ড।
‘এই বাহিনী মাদক চোরাচালান রোধ, মানব পাচার বন্ধ, জলদস্যু দমন এবং সুন্দরবনের বনজ ও মৎস্য সম্পদ রক্ষায় সাহসিকতার পরিচয় দিচ্ছে’ উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ সুন্দরবনে গত এক বছরে ২৯টি সফল অভিযানে ৩৫ জন ডাকাত গ্রেপ্তার এবং বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র ও কাঠ উদ্ধারের জন্য বাহিনীর সদস্যদের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
কোস্ট গার্ডের আধুনিকায়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, বাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে সম্প্রতি বহরে তিনটি সার্ভেইলেন্স ড্রোন যুক্ত হয়েছে। জাইকার অর্থায়নে একটি মাল্টিরোল রেসপন্স ভেসেল ও দুটি অফশোর প্যাট্রোল ভেসেল নির্মাণের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে বলেও জানান তিনি।
এ ছাড়া খুলনা শিপইয়ার্ডের মাধ্যমে বুলেটপ্রুফ হাই-স্পিড বোট ক্রয় এবং ভবিষ্যতে হেলিকপ্টার ও মেরিটাইম সারভেইলেন্স সিস্টেম সংযোজনে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বাহিনীর জনবল ১০ হাজারে উন্নীত করার কাজও প্রক্রিয়াধীন।’
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার এডমিরাল মো. জিয়াউল হক এনডিসি। বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।
এ সময় মন্ত্রী কোস্ট গার্ডের কর্মকর্তা, নাবিক এবং অসামরিক ব্যক্তিদের বীরত্ব ও সাহসিকতাপূর্ণ কাজের জন্য চারজনকে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড পদক, চারজনকে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড (সেবা) পদক, তিনজনকে প্রেসিডেন্ট কোস্ট গার্ড পদক এবং তিনজনকে প্রেসিডেন্ট কোস্ট গার্ড (সেবা) পদকসহ মোট ১৪ জন সদস্যের হাতে সম্মাননা তুলে দেন।
অনুষ্ঠানে কোস্ট গার্ডের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের উপর ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়। মন্ত্রী কোস্ট গার্ড সদর দপ্তর চত্বরে বৃক্ষরোপণ করেন এবং ভিজিটর বুকে স্বাক্ষর করেন।


