নিরাপদ সড়ক আন্দোলন এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন বলেছেন, ‘আমার স্বপ্ন আপনাদের কাছে দিয়ে গেলাম। আমি না থাকলেও আপনারা নিরাপদ সড়ক বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখবেন।’
শুক্রবার বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে নিসচার ৩৩ বছর পূর্তি উপলক্ষে ১১তম জাতীয় মহাসম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘সরকার, প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, পরিবহন মালিক-শ্রমিক, প্রকৌশলী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গণমাধ্যম ও প্রতিটি সচেতন নাগরিককে এ আন্দোলনের অংশ হতে হবে। আমরা প্রতিপক্ষ নই। মানুষের জীবন রক্ষায় আমরা সবাই সহযোদ্ধা।’
নিসচার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মিরাজুল মঈন জয় বলেন, ‘বাংলাদেশে এখনো যানবাহনের নিরাপত্তা (ভেহিকেল সেফটি) নিয়ে কাজই শুরু হয়নি।’
তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ‘রোড অ্যাক্সিডেন্ট’-এর পরিবর্তে ‘রোড ক্র্যাশ’ বলা হলেও বাংলায় এখনো ‘সড়ক দুর্ঘটনা’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়। ‘রোড ক্র্যাশ’-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি বাংলা শব্দ নির্ধারণে বাংলা একাডেমির প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
উদ্বোধনী বক্তব্যে সড়ক পরিবহন প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ বলেন, ‘নিরাপদ সড়ক কোনো দাবি নয়। এটি নাগরিকের জীবনের অধিকার নিশ্চিত করার প্রশ্ন।’
তিনি বলেন, সরকার সড়ক অবকাঠামোর পাশাপাশি নিরাপত্তায়ও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে সরকার, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, পরিবহন মালিক-শ্রমিক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, ‘নিরাপদ সড়ক আন্দোলন কোনো সরকারবিরোধী আন্দোলন নয়। এটি মানুষের জীবন ও অধিকার রক্ষার সামাজিক আন্দোলন।’ তিনি বলেন, নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এ লক্ষ্য অর্জনে সরকার ও নাগরিকদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
মহাসম্মেলনে দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে আসা নিসচার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


