রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজের আগুনের ঘটনার একদিন পরও ধোঁয়া বের হতে দেখা গেছে। এ সময় বিমানবন্দরের সামনে ভিড় করেন মানুষজন। তবে বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। এদিকে অগ্নিকাণ্ডে তরুণ উদ্যোক্তরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে তারা জানিয়েছেন।
রোববার সকালে ধোঁয়া বের হতে দেখে দুই পাশ থেকে পানি দেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।
ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স সদর দপ্তরের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের দায়িত্বরত কর্মকর্তা লিমা খানম বলেন, এখনও উদ্ধারকাজ চলছে।
‘ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে। নিরাপত্তার জন্য বিপুল পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে, এ ঘটনায় এখনও কোন মামলা দায়ের করা হয়নি’ বলে জানান ঢাকা মহানগর পুলিশের উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ মুহিদুল ইসলাম।
এদিকে, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ তাদেরকে ভেতরে গিয়ে আগুন নেভাতে দেয়নি। অগ্নি নির্বাপনে ভুল পদ্ধতির কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসতে সময় লেগেছে। এমনকি ফায়ার সার্ভিস আগুন নেভানো শুরুর আগে বার বার বলেছে– তাদের অনুমতির দরকার।
ব্যবসায়ী মফিজুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের কয়েক কোটি টাকার পণ্য এলসি করা হয়েছিল। সব শেষ হয়ে গেছে, কিন্তু কর্তৃপক্ষ কিছুই জানায়নি।’
ইম্পোর্টার হারুনর রশীদ টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘আমার ১০০ কার্টুনের বেশি বিভিন্ন ধরনের ইলেকট্রনিকস জিনিস শুক্রবারে বিমানবন্দরে এসেছে৷ কিন্তু সব শেষ হয়ে গেল। তবে, আমাদের সঙ্গে কর্তৃপক্ষ এখনও যোগাযোগ করেনি। আমরা পথে বসে গেলাম।’
জানা গেছে, সব চেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে তরুণ উদ্যোক্তা ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের। তাদের দু’টি শিপমেন্টে ১৫ থেকে ৭৫-৮০ লাখ টাকার মালামাল নামে। সারা মাস সেগুলোই তারা বিক্রি করেন। এসব ব্যবসায়ীরা সব থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পথে বসেছেন।
ফয়েজুর রহমান নামে একজন উদ্যোক্তা জানান, শুক্রবার তার গার্মেন্টসের সুতা এসেছে। সাড়ে ১৪ কোটি টাকার সুতা সব আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
শনিবার দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে আগুনের ঘটনা ঘটে। প্রায় সাত ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিসের ৩৭টি ইউনিট।
এই অগ্নিকাণ্ডে কেউ নিহত হননি। তবে আগুন নেভাতে গিয়ে ২৫ জন আনসার সদস্য আহত হন বলে জানায় আনসার ও ভিডিপি কর্তৃপক্ষ।
পরে রাত ৯টায় ফের বিমান চলাচল শুরু হয়। এর আগে, এ আগুনের কারণে বিমানবন্দরে সব ধরনের উড়োজাহাজ ওঠানামা সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।


