দূষণ নিয়ন্ত্রণ, কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশ সুরক্ষায় সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, সংস্থা ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগই টেকসই সমাধান নিশ্চিত করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সভাকক্ষে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পানি ও অন্যান্য দূষণরোধে আয়োজিত মন্ত্রী পর্যায়ের মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সভায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু এবং প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম অংশ নেন।
মন্ত্রী বলেন, পরিবেশ দূষণ বর্তমানে দেশের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। নগরায়ন, অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নদী ও জলাশয়ে বর্জ্য নিক্ষেপ এবং একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক ও পলিথিনের ব্যবহার পরিবেশের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ সৃষ্টি করছে। এসব সমস্যা মোকাবিলায় বিচ্ছিন্ন উদ্যোগ নয়, বরং সমন্বিত ও পরিকল্পিত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, পরিবেশ রক্ষায় শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশবান্ধব আচরণ গড়ে তোলাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ক্ষতিকর পলিথিন ব্যাগের ব্যবহার কমানো এবং বিকল্প পরিবেশবান্ধব উপকরণের ব্যবহার বাড়াতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
সভায় সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী পরিবেশ সংরক্ষণে তার মন্ত্রণালয়ের গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ ও চলমান কার্যক্রম তুলে ধরে বলেন, পরিবেশ রক্ষায় সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় জোরদারের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধিতেও গুরুত্ব দিতে হবে।
মতবিনিময় সভায় পানি দূষণ, কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ, নদ-নদী সংরক্ষণ এবং পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর পলিথিনের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহিদুল হাসান, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব মোহাং শওকত রশীদ চৌধুরী, এবং স্থানীয় সরকার বিভাগ, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, দুই সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
সভায় বক্তারা বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, পানি ও পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং টেকসই পরিবেশ নিশ্চিত করতে আন্তমন্ত্রণালয় সমন্বয় আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।


