কলম্বিয়ার ভূমিকম্পপ্রবণতা বোঝার জন্য বিশ্বের বড় ভূমিকম্পগুলোর ইতিহাসও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ ও অন্যান্য সক্রিয় প্লেট সীমানায় সংঘটিত ঘটনাগুলো দেখায়, ভূমিকম্প কতটা শক্তিশালী হতে পারে।
১৯৬০, চিলি
বিশ্ব ইতিহাসের সর্বকালের সবচেয়ে শক্তিশালী রেকর্ডকৃত ভূমিকম্প হলো ১৯৬০ সালের চিলির ভালদিভিয়া ভূমিকম্প। ২২ মে আঘাত হানা এই ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৯ দশমিক ৫। এটি ‘গ্রেট চিলিয়ান আর্থকোয়েক’ নামেও পরিচিত।
ইউএসজিএসের তথ্যমতে, এই ভূমিকম্পের প্রভাবে প্রলয়ঙ্করী সুনামি সৃষ্টি হয়, যা প্রশান্ত মহাসাগরজুড়ে তাণ্ডব চালায়। এতে অন্তত ১ হাজার ৬৫৫ জন মানুষ নিহত হন, ৩ হাজারের বেশি মানুষ আহত হন এবং প্রায় ২০ লাখ মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েন।
১৯৬৪, আলাস্কা
বিশ্ব ইতিহাসের দ্বিতীয় শক্তিশালী রেকর্ডকৃত ভূমিকম্প হলো ১৯৬৪ সালের আলাস্কা ভূমিকম্প। এর মাত্রা ছিল ৯ দশমিক ২। ২৭ মার্চ আঘাত হানা এই ভূমিকম্পটি ‘গ্রেট আলাস্কান আর্থকোয়েক’ নামে পরিচিত।
ইউএসজিএসের তথ্যমতে, এই ভূমিকম্পের ফলে প্রশান্ত মহাসাগরে বিশাল সুনামি সৃষ্টি হয়, যা সুদূর হাওয়াই অঙ্গরাজ্যে আঘাত হানে। সেখানে এক মিলিয়ন বা ১০ লাখ ডলারের বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়।
২০০৪, সুমাত্রা
২০০৪ সালের সুমাত্রা ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৯ দশমিক ১। ইউএসজিএসের তথ্যমতে, ভারত মহাসাগরে আঘাত হানা এই শক্তিশালী ভূমিকম্প ও পরবর্তী প্রলয়ঙ্করী সুনামিতে মোট ২ লাখ ২৭ হাজার ৮৯৮ জন নিহত বা নিখোঁজ হন। ইন্দোনেশিয়া, শ্রীলঙ্কা, ভারত, থাইল্যান্ডসহ দক্ষিণ এশিয়া ও পূর্ব আফ্রিকার ১৪টি দেশে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটে।
২০১১, জাপান
২০১১ সালের তোহোকু ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৯ দশমিক ১। ইউএসজিএসের তথ্যমতে, জাপানের মূল ভূখণ্ডের অদূরে প্রশান্ত মহাসাগরে আঘাত হানা এই ভূমিকম্প ও পরবর্তী সুনামিতে ১৫ হাজার ৭০০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারান এবং বহু মানুষ নিখোঁজ হন।
এর ফলে ফুকুশিমা দাইইচি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে শতাব্দীর অন্যতম ভয়াবহ পারমাণবিক বিপর্যয় ঘটে।
১৯৫২, কামচাটকা
১৯৫২ সালের কামচাটকা ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৯ মাত্রার। ইউএসজিএসের তথ্যমতে, রাশিয়ার দূরপ্রাচ্যের কামচাটকা উপদ্বীপের উপকূলে আঘাত হানা এই ভূমিকম্প বিশাল সুনামি সৃষ্টি করে। সেই সুনামি প্রশান্ত মহাসাগর পেরিয়ে হাওয়াই পর্যন্ত পৌঁছায়। সেখানে কোনো প্রাণহানি না হলেও ১০ লাখ ডলারের বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়।
২০১০, চিলি
২০১০ সালের চিলির মাউলে ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৮ দশমিক ৮। ইউএসজিএসের তথ্যমতে, দেশটির মধ্য ও দক্ষিণ উপকূলে আঘাত হানা এই ভূমিকম্প এবং এর ফলে সৃষ্ট সুনামিতে ৫২০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারান। প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার ঘরবাড়ি ধ্বংস বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ৩০ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতি ঘটে।
১৯০৬, ইকুয়েডর-কলম্বিয়া
১৯০৬ সালের ইকুয়েডর-কলম্বিয়া ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৮ দশমিক ৮। এটি কলম্বিয়া ও ইকুয়েডর উপকূলকে প্রভাবিত করা ইতিহাসের সবচেয়ে বড় রেকর্ডকৃত ভূমিকম্প।
ইউএসজিএসের তথ্যমতে, প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে আঘাত হানা এই ভূমিকম্প ও এর ফলে সৃষ্ট সুনামিতে ৫০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ মানুষ প্রাণ হারান এবং উপকূলীয় অঞ্চলজুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটে।
২০২৫, কামচাটকা
২০২৫ সালের ২৯ জুলাই আঘাত হানা কামচাটকা ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৮ দশমিক ৮। এটি বিশ্ব ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী ভূমিকম্প।
ইউএসজিএসের তথ্যমতে, রাশিয়ার দূরপ্রাচ্য উপকূলের কাছে সংঘটিত এই ভূমিকম্পটি ২০১১ সালের তোহোকু ভূমিকম্পের পর বিশ্বজুড়ে ঘটে যাওয়া সবচেয়ে শক্তিশালী কম্পন। মূল ভূমিকম্পের আগে ৭ দশমিক ৪ মাত্রার একটি শক্তিশালী ফোরশকসহ একাধিক পূর্বকম্পন রেকর্ড করা হয়। ভূমিকম্পটি প্রশান্ত মহাসাগরজুড়ে সুনামি সৃষ্টি করে এবং হাওয়াই, ক্যালিফোর্নিয়া ও চিলি পর্যন্ত এর প্রভাব পৌঁছে।
১৯৬৫, র্যাট আইল্যান্ডস
১৯৬৫ সালের র্যাট আইল্যান্ডস ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৮ দশমিক ৭। ইউএসজিএসের তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কার অ্যালুশিয়ান দ্বীপপুঞ্জে আঘাত হানা এই ভূমিকম্প ১০ মিটারেরও বেশি উঁচু সুনামি সৃষ্টি করে। দুর্গম এলাকা হওয়ায় বড় ধরনের প্রাণহানি না ঘটলেও সেমিয়া দ্বীপসহ বিভিন্ন অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়।
১৯৫০, আসাম-তিব্বত
১৯৫০ সালের আসাম-তিব্বত ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৮ দশমিক ৬। ইউএসজিএসের তথ্যমতে, তিব্বতের রিমা অঞ্চলে উৎপত্তি হওয়া এই ভূমিকম্পে ভারত ও তিব্বত মিলিয়ে অন্তত ৪ হাজার ৮০০ মানুষ প্রাণ হারান। এর প্রভাবে ব্রহ্মপুত্র নদের গতিপথ পরিবর্তিত হয় এবং বিশাল এলাকায় ভূমিধস ঘটে।


