বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ব্যাংক মালিকানার দিকে ইঙ্গিত করে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘বিএনপির কোনো ব্যাংক নেই। বাংলাদেশের মানুষ জানে কাদের ব্যাংক আছে। যাদের নিজস্ব ব্যাংক আছে, তাদের দলের সদস্যদের তো ঋণখেলাপি হওয়ার সুযোগ নেই। কারণ তারা তাদের পছন্দের লোককে চেয়ারম্যান ও এমডি বানান, নিজেদের সুবিধামতো নিয়োগ দেন। এই সুযোগ-সুবিধা বিএনপির নেই।’
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘ব্যাংক-ক্লায়েন্ট রিলেশনশিপ একটি পেশাদার বিষয়। কিন্তু বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যাংকিং সেক্টরকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে সব ধরনের বাধা সৃষ্টি করা হয়েছিল।’
ঋণখেলাপি ও ঋণ পুনঃতফসিলীকরণকে ব্যবসা ও ব্যাংকিং খাতের একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া হিসেবে বর্ণনা করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘গত ১৭ বছর ধরে বিএনপির ব্যবসায়ীদের ওপর যে পরিকল্পিত বাধা সৃষ্টি করা হয়েছিল, তারই ফলস্বরূপ অনেকে আজ ঋণখেলাপিতে পরিণত হয়েছেন।’
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘ঋণখেলাপি বা পুনঃতফসিলীকরণ—এটি বিএনপি আবিষ্কার করেনি। যতদিন বিশ্বে ব্যাংকিং ব্যবস্থা আছে, ততদিন এই প্রক্রিয়া ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। কোভিডের সময় বা বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামের সময় ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হলে বিশ্বব্যাপী ঋণ পুনঃতফসিল করা হয়। এটি একটি স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকিং প্র্যাকটিস।’
বিগত সরকারের আমলে বিএনপির ব্যবসায়ীদের প্রতি বৈষম্যের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘গত ১৭ বছর বিএনপির ব্যবসায়ীরা শান্তিতে ব্যবসা করতে পারেননি। তাদের লোন পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। ঋণের সময়সীমা শেষ হলে তা বাড়ানো হয়নি। এমনকি তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের গ্যাস ও বিদ্যুতের লাইন কেটে দেওয়া হয়েছে।’
আমির খসরু বলেন, ‘যাদের খেলাপি বলা হচ্ছে, তাদের অনেকে দীর্ঘ সময় বাড়িতে থাকতে পারেননি, পালিয়ে বেড়িয়েছেন। অনেকে বছরের পর বছর জেলের মধ্যে ছিলেন। জেলে বসে ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করা কি এতই সহজ ব্যাপার?’
রাষ্ট্রপতি ব্যক্তি নন, একটি প্রতিষ্ঠান
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে নিয়ে বিরোধীদলের নেতিবাচক মন্তব্যের জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘রাষ্ট্রপতি কোনো ব্যক্তি নন, তিনি একটি প্রতিষ্ঠান। সাংবিধানিক গণতন্ত্রে বিশ্বাস করলে এই প্রতিষ্ঠানের প্রতি সম্মান জানানো সবার নৈতিক দায়িত্ব।’
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামের বক্তব্যের সমালোচনা করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘একজন সদস্য (নাহিদ ইসলাম) প্রেসিডেন্টকে নিয়ে অনেকগুলো কথা বলেছেন। প্রেসিডেন্টের প্রতি আমার ব্যক্তিগত কোনো ভালোবাসা আছে কি না সেটা বড় কথা নয়, কিন্তু রাষ্ট্রপতি ব্যক্তি নন, একটি প্রতিষ্ঠান।‘
তিনি বলেন, ‘নাহিদ সাহেব যখন শপথ নিয়েছিলেন, তখন প্রেসিডেন্টের কাছেই নিয়েছিলেন। তাহলে কেন নিয়েছিলেন? আপনারা শপথ নিয়ে মন্ত্রী হয়েছিলেন, আমি তখন আপনাদের কৃতিত্ব দিয়েছিলাম। কারণ আপনারা তখন ব্যক্তি নয়, বরং রাষ্ট্রপতির প্রতিষ্ঠানকে সম্মান জানিয়েছিলেন। কিন্তু এখন আপনি মন্ত্রী নেই, বিরোধী দলে বসে আছেন বলে রাষ্ট্রপতিকে তার সম্মান থেকে বঞ্চিত করছেন। আপনাদের বক্তব্যে এই বিষয়টি বারবার উঠে আসছে।’
অন্তর্বর্তী সরকারের শপথ গ্রহণের দিনের স্মৃতিচারণ করে আমির খসরু বলেন, ‘যেদিন অন্তর্বর্তী সরকারের শপথ গ্রহণ করা হয়েছে, আমাদের বন্ধুরা (বর্তমান বিরোধী দল) সবাই সদলবলে সম্মুখ সারিতে উপস্থিত ছিলেন। আমরা তখন জায়গা না পেয়ে পেছনে বসেছিলাম। সুতরাং এখন এই ধরনের মন্তব্য মানায় না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আপনি যদি সাংবিধানিক গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন, তবে আপনাকে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্মান করতে হবে। এখানে ব্যক্তির কোনো বিষয় নেই।’


