ঈদুল ফিতরের মাত্র একদিন আগে দেশের শত শত কারখানার শ্রমিকরা এখনো ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন ও বোনাসের অপেক্ষায় রয়েছেন। এতে করে উৎসবের প্রাক্কালে শ্রমিকদের আর্থিক সংকট নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
শিল্প পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, অধিকাংশ কারখানা বেতন-ভাতা পরিশোধ করলেও একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এখনো বকেয়া রয়েছে। মোট ১০ হাজার ১০০টি কারখানার মধ্যে ৯ হাজার ৫১৮টি কারখানা, ৯৪ দশমিক ২৪ শতাংশ, ফেব্রুয়ারির বেতন সম্পূর্ণ পরিশোধ করেছে। তবে ৫৮২টি কারখানা, ৫ দশমিক ৭৬ শতাংশ, এখনো বেতন পরিশোধ সম্পন্ন করেনি।
ঈদ বোনাসের ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। ৯ হাজার ৩৬১টি কারখানা-৯২ দশমিক ৬৮ শতাংশ-শ্রমিকদের বোনাস দিয়েছে। অন্যদিকে, ৭৩৯টি কারখানা-৭ দশমিক ৩২ শতাংশ-এখনো বোনাস পরিশোধ করেনি।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, প্রশাসনিক জটিলতা ও নগদ অর্থের সংকট, বিশেষ করে ছোট কারখানাগুলোতে, এই বিলম্বের প্রধান কারণ। তবে শ্রমিক নেতারা মনে করছেন, বাস্তবে সমস্যার পরিধি আরও বড় হতে পারে।
শ্রমিক নেতা বাবুল আক্তার দাবি করেন, অনেক শিল্পাঞ্চলে পর্যাপ্ত তদারকি না থাকায় প্রকৃত বকেয়া কারখানার সংখ্যা সরকারি হিসাবের তুলনায় পাঁচ গুণ পর্যন্ত বেশি হতে পারে।
বাংলাদেশের শ্রম আইন অনুযায়ী, ঈদের আগে বোনাস পরিশোধ না করা গুরুতর অপরাধ, যার জন্য সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
এই বিলম্বের কারণে হাজারো শ্রমিকের ঈদ প্রস্তুতি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, দেশে ৭ কোটিরও বেশি শিল্প শ্রমিক রয়েছে, যাদের অনেকেই সময়মতো বেতন-বোনাসের ওপর নির্ভর করে ঈদের কেনাকাটা, যাতায়াত ও অন্যান্য ব্যয় মেটান।
শ্রম অর্থনীতিবিদ খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, সময়ে বেতন ও বোনাস পরিশোধ শুধু শ্রমিক কল্যাণের জন্যই নয়, শিল্প খাতের স্থিতিশীলতার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিলম্ব হলে শ্রমিকদের মনোবল ভেঙে যায় এবং খাতে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।
শ্রমিক প্রতিনিধিরা আরও জানান, আইন প্রয়োগে দুর্বলতা ও প্রশাসনিক অদক্ষতার কারণে, বিশেষ করে বড় শিল্পাঞ্চলের বাইরে, এই সমস্যা এখনো রয়ে গেছে।


