ঝালকাঠিতে বালুবাহী নৌযানের ধাক্কায় ভাঙল সেতু

ঝালকাঠিতে বালুবাহী নৌযানের ধাক্কায় ভাঙল সেতু
Advertisement
Advertisement

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার পুটিয়াখালী এলাকার ঝালোবাড়ি খালে অবৈধ বালুবাহী নৌযানের ধাক্কায় সেতু ভেঙে গেছে। এতে রাজাপুর, কাঁঠালিয়া ও ভান্ডারিয়া-এই তিন উপজেলার বড় একটি অংশের মানুষের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।

সোমবার বিকালে এ ঘটনা ঘটে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় করে যেতে হচ্ছে গন্তব্যে।

স্থানীয়রা জানান, পুটিয়াখালী এলাকার ঝালোবাড়ি খালের ওপর নির্মিত সেতুটি দিয়ে প্রতিদিন তিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকার হাজার হাজার মানুষ চলাচল করেন। কয়েক বছর ধরেই আয়রন ঢালাই সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। এরই মধ্যে বালুবাহী নৌযান খাল দিয়ে যাওয়ার সময় সেতুতে ধাক্কা দিলে সেতুটি ভেঙে পড়ে। এরপর ওই সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় রাজাপুর উপজেলার আরুয়া, সোনারগাঁওসহ আশপাশের এলাকার মানুষের পাশাপাশি কাঁঠালিয়া ও ভান্ডারিয়া উপজেলার বড় একটি অংশের বাসিন্দারা সরাসরি সড়ক যোগাযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন।

বিকল্প পথে চলাচল করতে গিয়ে স্থানীয়দের সময় ও খরচ দুটোই বেড়েছে। এ সড়কের ওপর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা নির্ভরশীল। সেতু ভেঙে যাওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী সময়মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে পারবে কিনা, তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন

স্থানীয় বাসিন্দা তাসলিমা বেগম, হেমায়েত, নাদিম ও আবু মিয়া বলেন, ‘এই সড়কটি তিন উপজেলার মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় আমাদের চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। শিক্ষার্থী, রোগী, ব্যবসায়ীসহ সব শ্রেণির মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন।’ দ্রুত সেতুটি নির্মাণ করে যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করার দাবি জানান তিনি।

তারা অভিযোগ করেন, খালে অবৈধভাবে বালু পরিবহনের কারণে সেতুতে ধাক্কা লেগেছে। তাদের দাবি, যে নৌযানের ধাক্কায় সেতুটি ভেঙেছে, সেটি দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি সেতু নির্মাণের ব্যয় সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে আদায়েরও দাবি জানান তারা।

তিন উপজেলার মানুষের চলাচলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দ্রুত সচল করা না হলে দুর্ভোগ আরও বাড়বে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও জরুরি প্রয়োজনে চলাচলকারী মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হবে। এদিকে স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ, সেতুটি পুনর্নির্মাণ এবং দায়ী বালুবাহী যানটির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। দ্রুত সেতু নির্মাণ করা না হলে রাজাপুর, কাঁঠালিয়া ও ভান্ডারিয়ার লাখো মানুষের দুর্ভোগ আরও দীর্ঘায়িত হবে।

রাজাপুর উপজেলা এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী অভিজিৎ মণ্ডল বলেন, দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে উদ্যোগ নেওয়া হবে। বালুর যানের বিরুদ্ধেও আইনত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad