‘সুস্থ থাকতে সাইকেল ধরি, পাটের চাষে উন্নতি করি, গাছ লাগিয়ে শীতল ছায়া-সুন্দর এক জীবন গড়ি’-এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মাত্র দুই মাস ২৭ দিনে দেশের ৬৪ জেলা সাইকেলে ভ্রমণ করেছেন কুষ্টিয়ার তরুণ সাইক্লিস্ট এমডি মেহেদী হাসান।
কুষ্টিয়ার লাহিনী কারিগর পাড়ার সুলতান মাহমুদের ছেলে মেহেদী হাসান তার প্রিয় ‘চায়না ফোনিক্স’ সাইকেল নিয়ে কুষ্টিয়া থেকে যাত্রা শুরু করেছিলেন। যেই যাত্রার নাম ছিল ‘মিশন সিক্সটি ফোর’।
নিজের শহর থেকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে গত শুক্রবার বিকালে ৬৪ জেলা ভ্রমণ শেষে নিজ জেলাতেই ফিরে যান তিনি। এ সময় স্বজন, শুভানুধ্যায়ী ও স্থানীয় সাইক্লিংপ্রেমীরা তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।
কুষ্টিয়া থেকে যাত্রা শুরু করে দেশের আট বিভাগের ৬৪টি জেলা ঘুরেছেন মেহেদী। তার এই ভ্রমণের মূল উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও বৈচিত্র্যকে কাছ থেকে দেখা এবং তরুণ প্রজন্মকে পরিবেশবান্ধব বাহন হিসেবে সাইকেল ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করা। পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষা, বৃক্ষরোপণ, দেশীয় পাটের প্রসার ও সুস্থ জীবনযাপনের বার্তা মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়েছেন তিনি।
দীর্ঘ এই পথচলায় প্রচণ্ড রোদ, বৃষ্টি, দুর্গম পথ কিংবা সাইকেলের যান্ত্রিক ত্রুটি-কোনো কিছুই তার স্বপ্নের যাত্রাকে থামাতে পারেনি। ভ্রমণ পথে বিভিন্ন জেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, জনবহুল এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে গিয়ে সাধারণ মানুষ, তরুণ ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথাও বলেছেন মেহেদী।
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণ, দেশীয় পাটের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা এবং শারীরিক সুস্থতার জন্য নিয়মিত সাইকেল চালানোর গুরুত্ব তুলে ধরে বিভিন্ন এলাকায় জনসচেতনতামূলক প্রচারণা চালিয়েছেন তিনি। এ সময় বিভিন্ন স্থানে পরিবেশবিষয়ক লিফলেট বিতরণের পাশাপাশি গাছের চারাও রোপণ করেছেন তিনি।
মেহেদীর এই উদ্যোগে সাড়া দিয়েছেন বিভিন্ন জেলার স্থানীয় বাসিন্দা, তরুণ ও সাইক্লিং কমিউনিটির সদস্যরা। অনেক স্থানেই তাকে ফুল দিয়ে ও করতালির মাধ্যমে বরণ করে নেওয়া হয়। তার ৬৪ জেলা ভ্রমণের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রশংসা কুড়িয়েছে।
মেহেদী হাসান বলেন, ‘আমাদের ছোট ছোট ইতিবাচক অভ্যাসেই বদলে যেতে পারে পুরো সমাজ। সাইকেল ব্যবহার, গাছ লাগানো এবং দেশীয় পাটের সমৃদ্ধি ফিরিয়ে আনতে পারলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর, সবুজ ও সুস্থ পরিবেশ রেখে যেতে পারব।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই ভ্রমণের মাধ্যমে আমি বাংলাদেশের প্রকৃতি, মানুষের জীবনযাপন ও দেশের বৈচিত্র্যকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছি। পাশাপাশি তরুণদের পরিবেশবান্ধব বাহন হিসেবে সাইকেল ব্যবহারে উৎসাহিত করাই ছিল অন্যতম লক্ষ্য।’
মেহেদীর ৬৪ জেলা ভ্রমণ প্রসঙ্গে তরুণ সাইক্লিস্ট আলি জুবায়ের বলেন, ‘মেহেদীর এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। শুধু সাইকেল নিয়ে দেশ ঘুরে আসা নয়, এর সঙ্গে পরিবেশ রক্ষা ও সুস্থ জীবনের যে বার্তা তিনি ছড়িয়ে দিয়েছেন, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তার মতো তরুণদের ইতিবাচক উদ্যোগ অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করবে।’
কুষ্টিয়া সাইক্লিস্ট এর সদস্য কাজী মোজাদ্দেদ বলেন, ‘অদম্য ইচ্ছাশক্তি থাকলে যে কোনো কঠিন কাজই সম্ভব-মেহেদী তার ৬৪ জেলা ভ্রমণের মাধ্যমে সেটিই প্রমাণ করেছেন। তরুণ সমাজ যখন নানা নেতিবাচকতায় জড়িয়ে পড়ছে, তখন তার মতো একজন তরুণের এমন ব্যতিক্রমী ও সামাজিক দায়বদ্ধতামূলক উদ্যোগ নিঃসন্দেহে অনুকরণীয়।’
মেহেদীর স্বপ্ন এখন আরও বড়। সুযোগ পেলে ভবিষ্যতে বাইসাইকেল নিয়ে দেশের সীমানা পেরিয়ে বিশ্বভ্রমণে বের হতে চান তিনি। তার বিশ্বাস, অদম্য ইচ্ছা, আত্মবিশ্বাস ও পরিশ্রম থাকলে কোনো লক্ষ্যই অসম্ভব নয়।


