সাগরে নিম্নচাপ, ৭ জেলায় বন্যার আশঙ্কা

সাগরে নিম্নচাপ, ৭ জেলায় বন্যার আশঙ্কা
পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে যেতে পারে নিম্নাঞ্চল। ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে হওয়া টানা ভারী বৃষ্টিপাতে দেশের ৭ জেলার নিচু এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরের পশ্চিম-মধ্য এবং উত্তর-পশ্চিম অংশে তৈরি হওয়া গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে টানা বৃষ্টিপাত এবং বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় এসব এলাকায় বন্যার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার এক বুলেটিনে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, নিম্নচাপের কারণে হওয়া বৃষ্টিপাতে চট্টগ্রাম, ফেনী, শেরপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, লালমনিরহাট ও নীলফামারীর বিভিন্ন নদীর পানি বাড়ছে। এর ফলে সেখানকার নিচু এলাকায় স্বল্পমেয়াদী বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।

টানা বৃষ্টিপাতের ফলে ফেনী জেলার মুহুরী, সিলোনিয়া ও ফেনী নদীর পানিও বৃদ্ধি পেতে পারে, এতে সেখানেও নিচু এলাকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে। চট্টগ্রামের ফেনী নদীর পানি বিপৎসীমায় পৌঁছাতে পারে, যার ফলে পার্শ্ববর্তী নিচু এলাকায় অস্থায়ী প্লাবন দেখা দিতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের বুলেটিন বলেছে, বঙ্গোপসাগরের পশ্চিম-মধ্য ও উত্তর-পশ্চিম অংশে তৈরি হওয়া গভীর নিম্নচাপটি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে স্থল গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে এবং বর্তমানে সেখানে স্থির রয়েছে। এই গভীর নিম্নচাপ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ভারতের ওড়িশা উপকূল অতিক্রম করে।

নিম্নচাপের কারণে গত ২৪ ঘণ্টায় বরিশাল, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে বরিশালে ১১৯ মিলিমিটার, নীলফামারীর ডালিয়ায় ৭৮ মিলিমিটার এবং জামালপুরে ৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

তবে ভারতের উজানে খুব ভারী বৃষ্টিপাত হয়নি। আগামী দুই দিনে বাংলাদেশের কিছু অংশে এবং ভারতের উজান এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে।

আরও পড়ুন

অধিদপ্তর জানিয়েছে, রংপুর বিভাগের তিস্তা, ধরলা এবং দুধকুমার নদীগুলোর পানি আগামী তিন দিনে বাড়তে পারে। এই সময়ের মধ্যে তিস্তা নদীর পানি সতর্কতা সীমায় পৌঁছাতে পারে, যার ফলে লালমনিরহাট ও নীলফামারীর নিচু এলাকা প্লাবিত হতে পারে।

একইভাবে, ময়মনসিংহ বিভাগের সোমেশ্বরী, ভোগাই এবং কংস নদীর পানি আগামী তিন দিনে বাড়তে পারে এবং শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনার নিচু এলাকা বন্যার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

বরিশাল, খুলনা ও চট্টগ্রাম বিভাগের উপকূলীয় নদীগুলোতেও এখন স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি জোয়ার দেখা যাচ্ছে, যা আগামী দুই দিন অব্যাহত থাকতে পারে।

ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীতে প্রথমে পানি কিছুটা কমলেও পরবর্তী চার দিনে তা আবার বাড়তে পারে। তবে পানি বিপদসীমার নিচেই থাকবে বলে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে।

গঙ্গা-পদ্মা নদীরও পানির স্তর আগামী দুই দিনে কমে যেতে পারে, পরবর্তী তিন দিনে তা আবার বাড়তে পারে। সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানিও আগামী তিন দিনে বাড়তে পারে।

রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের আত্রাই, পুনর্ভবা, করতোয়া, যমুনেশ্বরী, মহানন্দা, ঘাঘট, করতোয়া ও টাঙ্গন নদীর পানিও আগামী তিন দিনে বাড়তে পারে।

সিলেটের মনু, খোয়াই, ধলাই, সারিগোয়াইন ও যাদুকাটা নদীর পানির স্তর আগামী দুই দিনে বাড়তে পারে এবং তৃতীয় দিনে গিয়ে তা স্থিতিশীল হতে পারে।

তবে চট্টগ্রামের হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানির স্তর আগামী দুই দিন বাড়তে পারে, তারপর তৃতীয় দিনে তা কমে আসতে পারে।

নিম্নচাপের কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।  বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad