রাজধানী ঢাকায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) প্রধান কার্যালয় থেকে আটকের সংখ্যা প্রায় দুইশ বলে জানিয়েছে পুলিশ। শনিবার দুপুরে সেখানে যুবদল নেতাকর্মীরা মব সৃষ্টির পর বিকালে পুলিশ জাসদ নেতাকর্মীদের আটক করে।
পল্টন থানার ওসি আরিফুর ইসলাম টাইমস’কে জানান, ‘জাসদের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে কম-বেশি দুইশ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি।’
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল জোনের উপকমিশনার (ডিসি) হারুনুর রশিদ জানিয়েছেন, আটক ব্যক্তিরা জাসদ কার্যালয়ে কেন জড়ো হয়েছিলেন আর কী করছিলেন সেসব যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। পরে প্রয়োজনমতো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে শনিবার সকাল থেকে গুলিস্তানে জিপিওর উল্টাদিকে জাসদের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি সভা শুরু হয়। এতে অংশ নিতে আসেন দলের প্রায় চারশ নেতাকর্মী। এই সভায় মাইক ব্যবহারের অনুমতি ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা চেয়ে ২৪ সেপ্টেম্বর ডিএমপির কাছে চিঠিও দেওয়ার কথা জানান জাসদ নেতারা।
দুপুরের দিকে জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম নয়নের নেতৃত্বে যুবদলের নেতাকর্মীরা জাসদ কার্যালয় অবরুদ্ধ করে। তারা মব সৃষ্টির এক পর্যায়ে সেখানে যায় পুলিশ। পরে জাসদ কার্যালয় থেকে প্রতিনিধি সভায় আসা নেতাকর্মীদের আটক করা হয়।
অবশ্য পুলিশের কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা ঝটিকা মিছিল বের করেন। এ সময় মিছিল থেকে কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ধানমন্ডির ওই মিছিলে অংশ নেওয়া অনেকে পরে গুলিস্তানে জাসদের কার্যালয়ে গিয়ে আশ্রয় নেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো. আকতার হোসেন জানান, জাসদের প্রধান কার্যালয়ে বহিরাগত অনেকে অবস্থান নিয়ে বৈঠক করার পাশাপাশি জয় বাংলা স্লোগান দিচ্ছিলেন। তাদেরকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী সন্দেহে পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়েছে।
জাসদ ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের নেতৃত্বধীন ১৪ দলীয় জোটের অন্যতম শরীক দল। এই দলের সভাপতি সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে কারাগারে আছেন। এরই মধ্যে একটি মামলায় তাকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।


