মানিকগঞ্জের সিংগাইরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী ও স্টাফ পরিবহনকারী বাসে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রইছ উদ্দীন। একই দাবিতে বুধবার বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন জবি শিক্ষার্থীরা।
বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সিংগাইর থানায় গিয়ে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এ দাবি জানান উপাচার্য।
সাংবাদিকদের তিনি বলেন, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হামলায় জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনতে হবে। পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। মামলার এজাহারে আসামির সংখ্যা ও নাম বাড়ানোর বিষয়ে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি ও পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা বলেছেন বলেও জানান তিনি।
উপাচার্য আরও বলেন, ‘এই ঘটনা প্রমাণ করে একটি মহল চাচ্ছে, মানিকগঞ্জ এলাকার কেউ যেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা না করে।’
এর আগে হামলায় আহত এক শিক্ষার্থীর চিকিৎসার খোঁজ নিতে সাভারের এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যান তিনি।
এদিকে বুধবার বিকালে জবির প্রায় দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী সিংগাইরের ধল্লা ইউনিয়নের ভূমদক্ষিণ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বিক্ষোভ করেন। পরে তারা থানায় গিয়ে অবস্থান নেন।
এর আগে মঙ্গলবার বিকালে ঢাকার হেমায়েতপুর এলাকায় জবি শিক্ষার্থী ও স্টাফ পরিবহনকারী বাসটির সঙ্গে একটি মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হয়। মোটরসাইকেল চালক কাওসার বাসটিকে অনুসরণ করে সিংগাইরের ভূমদক্ষিণ এলাকায় যান। সেখানে আরও কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে বাসটির গতিরোধ করে দুই পাশের কাচ ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভাঙা কাচের আঘাতে তিন শিক্ষার্থী পূর্ণিমা, আখি আক্তার ও রিনভি আহত হন। হামলা ঠেকাতে গিয়ে বাসচালক মো. সাজ্জাদ হোসেনসহ আরও কয়েকজন আহত হন।
এ ঘটনায় বাসচালক বাদী হয়ে মঙ্গলবার রাতে কাওসারের নাম উল্লেখ করে আরও ১০ থেকে ১২ জন অজ্ঞাতনামাকে আসামি করে সিংগাইর থানায় মামলা করেন। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কাওসার পলাতক ছিলেন।
সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, হামলায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।


