সাংবাদিককে মারধর, রাজনৈতিক ইস্যুর ‘ভয়ে’ মামলা নিচ্ছে না ওসি

সাংবাদিককে মারধর, রাজনৈতিক ইস্যুর ‘ভয়ে’ মামলা নিচ্ছে না ওসি
উলিপুর থানার ওসি (বামে) এবং ভুক্তভোগী সাংবাদিক (ডানে)। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

কুড়িগ্রামের উলিপুরে জুলাই দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানস্থলে স্টার টিভির জেলা প্রতিনিধি মোহাম্মদ জুবাইরকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এতে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের ১৪ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে উলিপুর থানায় এজাহার দাখিল করলেও রাজনৈতিক ইস্যুর ভয়ে উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাঈদ ইবনে সিদ্দিক মামলা নথিভুক্ত করছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।

জানা গেছে, ভুক্তভোগী প্রতিবেদককে ফোনে রাজনৈতিক ইস্যুর বিষয়টি ওসি নিজেই জানিয়েছেন। সেই অডিও ক্লিপটি প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত আছে।

এর আগে, গত ৮ আগস্ট বিকালে জুবাইরের পক্ষে এজাহার দাখিল করেন উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম। এজাহার দাখিলের তিনদিন পেরিয়ে গেলেও ওসি জানিয়েছেন এজাহারে কিছু সংশোধনী আছে। তারা যাচাই-বাছাই করছেন।

এজাহারে উপজেলা বিএনপি নেতা নুরুজ্জামান বাচ্চু, যুবদল কর্মী রফিক হাসান, ছাত্রদল নেতা মেহেদী হাসান মারুফসহ বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের ১৪ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে অপহরণ চেষ্টা ও হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে।

হামলার শিকার সাংবাদিক জুবাইর বলেন, ‘গত বুধবার হামলার শিকার হয়ে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলাম। শনিবার দুপুরে বাড়ি ফিরেছি। বর্তমানে শরীর অনেকটা ভালো। হামলাকারীরা বিভিন্নভাবে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। এর মধ্যে শনিবার থানায় এজাহার দিয়েছি। কিন্তু এখনও মামলা নথিভুক্ত না হওয়ায় নানা শঙ্কার মধ্য দিয়ে আমাকে দিন পার করতে হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এমন আচরণ সত্যিই কল্পনাতীত।’

আরও পড়ুন

জুবাইরের অভিযোগ, জুলাই দিবসের অনুষ্ঠানের সংবাদ সংগ্রহে গেলে অডিটোরিয়াম থেকে তাকে বের করে দেন বিএনপি ও ছাত্রদল নেতাকর্মীরা। অডিটোরিয়ামের ভেতরে ওসির বক্তব্য চলাকালে ভিডিও-ছবি ধারণের সময় শামীম নামে এক বিএনপি কর্মী তাকে টেনে বাইরে আনেন। এরপর তাকে সেখান থেকে চলে যেতে বলে কিল-ঘুষি মারতে থাকেন। এ সময় শামীম তাকে উল্টা-পাল্টা নিউজ করার কথা বলে দোষারোপ করছিলেন।

এ বিষয়ে মামলা নথিভুক্ত না হওয়ার কথা জানতে চাইলে উলিপুর থানার ওসি বললেন, ‘রাজনৈতিক কিছু ইস্যু রয়েছে। তাই মামলা এখনও নথিভুক্ত করা হয় নি। আমরা যাচাই-বাছাই করছি।’

কী যাচাই- বাছাই করছেন এমন প্রশ্নের জবাবে, তিনি বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে মিটিংয়ের কথা বলে চলে যান। যদিও ঘটনার দিন ওসি জানিয়েছিলেন আহত সাংবাদিক সুস্থ হয়ে লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্তের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ওসি’র এমন কর্মকাণ্ডের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করে বাংলা ট্রিবিউন ও আজকের পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি আরিফুল ইসলাম রিগান বললেন, ‘ওসির দায়িত্ব থানায় কেউ এজাহার দাখিল করলে তা নথিভুক্ত করে তদন্ত করে সেই প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া। ওসি যে টালবাহানা করছেন তাতে তার উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ হয়। মামলা নথিভুক্ত করতে এমন বিলম্ব হলে তার বিরুদ্ধেই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad