এবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ২০২৬-২৭ মেয়াদের নির্বাচনে সভাপতি পদে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জামায়াত-এনসিপি জোটের প্রার্থী হচ্ছেন বলে জোরেসোরে আলোচনা চলছে। ইতিমধ্যে সভাপতি পদে নির্বাচন করার জন্য ফরম তুলেছেন তাজুল ইসলাম।
কোনো পদ-পদবিতে সরাসরি না থাকলেও জামায়াতের সঙ্গে দূরত্ব সৃষ্টি হওয়ায় ভিন্ন দল যোগ দেয়া তাজুল ইসলামকে ফের দলের পেশাজীবী পরিষদের নির্বাচনে সভাপতি প্রার্থী করার খবরে বেশ চাঞ্চল্যও সৃষ্টি হয়েছে।
যদিও বিষয়টি নিয়ে তাজুল ইসলাম কিংবা জামায়াতের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
রোববার রাতে তাজুল ইসলাম টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘সভাপতি পদে নির্বাচন করার চিন্তা থেকেই ফরম তুলেছি। তবে, নির্বাচন করবো কি না এখনো নিশ্চিত না। দেখা যাক শেষ পর্যন্ত কী হয়।’
তবে তাজুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ সূত্র বলছে, জামায়াত, এনসিপি ও এবি পার্টির প্যানেল থেকে তাকে সভাপতি পদে নির্বাচনে অংশ নিতে গ্রিন সিগন্যাল দেওয়া হয়েছে, যার অংশ হিসেবে তিনি ফরম তুলেছেন।
জামায়াতপন্থী ও সাধারণ আইনজীবীদের একাংশের মধ্যে তাজুল ইসলামকে প্রার্থী হিসেবে আনার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে বলেও জানা গেছে। দক্ষতা ও যোগ্যতার প্রশ্নে তাজুল ইসলাম এবং দলটির আরেক আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনিরকেও গুরুত্বপূর্ণ পদে প্রার্থী করতে চান তারা।
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠিত হলে তাজুল ইসলাম জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময় মামলা পরিচালনা করতে গিয়ে তিনি একাধিকবার পুলিশের হাতে আটক হন তিনি।
তবে, এক পর্যায়ে মামলা পরিচালনা নিয়ে দলটির কয়েকজন নেতার সঙ্গে মনোমালিন্যের জেরে জামায়াত নেতাদের মামলা পরিচালনা থেকে সরে দাঁড়ান তিনি। পরে ২০২০ সালে এবি পার্টি (আমার বাংলাদেশ পার্টি) গঠিত হলে তিনি সেখানে যোগ দেন তাজুল ইসলাম। দলটি গঠনের সময়ও তার ভূমিকা ছিল।
পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এবি পার্টি থেকে পদত্যাগ করেন তাজুল ইসলাম। ২০২৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর তিনি অ্যাটর্নি জেনারেলের পদমর্যাদায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ পান।
বিএনপি সরকার গঠনের পর চলতি বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি তাজুল ইসলামকে সরিয়ে নতুন চিফ প্রসিকিউটর নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর তিনি আবার আইন পেশায় ফিরে আসেন।
তাজুল ইসলামের মতো পরিচিত মুখ ও দক্ষ আইনজ্ঞকে কাজে লাগাতে আগ্রহী জামায়াত। সেই প্রেক্ষাপটেই সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে সভাপতি পদে তার নাম উঠে এসেছে।
এক্ষেত্রে জামায়াত জোটের অন্যতম শরিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমর্থন রয়েছে বলেও জানা গেছে।
তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। রোববার রাতে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি এবং দলটির মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের টাইমসকে বলেন, ‘তাজুল ইসলামকে আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে জোটের সভাপতি প্রার্থী করা হচ্ছে—এমন কোনো বিষয় আমার জানা নেই।’
তাজুল ইসলামের রাজনৈতিক ও পেশাগত পথচলা বেশ বৈচিত্র্যময়। তিনি একজন স্বনামধন্য আইনজীবী হওয়ার পাশাপাশি সুবক্তা হিসেবেও পরিচিত। আইন অঙ্গনে ক্ষুরধার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্যও তিনি আলোচিত-সমালোচিত।
এবারের সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে ফরম বিতরণ শুরু হয়েছে গত ১৯ এপ্রিল, যা চলবে ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত। আর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা আগামী ১৩ ও ১৪ মে।
মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ১৯৯৫ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি এবং ১৯৯৬ সালে এলএলএম ডিগ্রী লাভ করেন।
তাজুল ইসলাম ১৯৯৮ সালে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে নিবন্ধিত হওয়ার পর তার আইনি পেশা শুরু করেন এবং ১৯৯৯ সালের ৩০ জানুয়ারি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন।


