বিএনপি ষড়যন্ত্রমূলকভাবে জুলাই সনদকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য এক ধরনের ডুয়েল গেম খেলছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ।
সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে দলটির অস্থায়ী কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
আসিফ বলেন, ‘আমরা মনে করছি বিএনপি ষড়যন্ত্রমূলকভাবে জুলাই সনদকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য আদালতে গিয়েছেন এবং এক ধরনের ডুয়েল গেম খেলছেন।’
সরকার নির্বাচিতভাবে কিছু সংস্কারের কথা বললেও ঐকমত্য কমিশনে যেসব বিষয়ে একমত হয়েছিল, সেগুলো বাস্তবায়নে এগোচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আসিফ বলেন, ‘বিভিন্ন সময় জনগণের জনবিরুদ্ধ কোনো সিদ্ধান্ত নিতে গেলে আদালতকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হয় এবং জনগণকে আদালতের বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয়। কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময়ও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন, তিনি জেনেছেন যে আদালতে শুনানি হবে। উনার জানার মধ্যেও এক ধরনের সন্দেহের উদ্রেক করে।’
আসলে তিনি জেনেছেন নাকি তারাই করিয়েছেন, প্রশ্ন রাখেন সাবেক এই সমন্বয়ক।
তার দাবি, বিএনপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরাই আদালতে জুলাই সনদের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘এই একই সনদের ভিত্তিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংবিধানের ভিত্তিতে নির্বাচন হলে সেটা ২৯ সালে হওয়ার কথা। যদি জুলাই সনদের বিরুদ্ধে কোনো রায় আসে, তাহলে এই সরকার এবং এই সংসদও বাতিল হয়ে যাওয়ার এক ধরনের সম্ভাবনা রয়েছে।’
সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘সরকারি দলের সংসদ সদস্য যারা আছেন, আপনারা সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নিন। যদি এই শপথ না নেন তাহলে যে আদেশের ভিত্তিতে নির্বাচন হয়েছে, সেই আদেশের লঙ্ঘন হয়।’
রাষ্ট্রপতির প্রসঙ্গ টেনে এনসিপির মুখপাত্র বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের মধ্য দিয়ে প্রথম অধিবেশন শুরু হতে পারে না। যদি তা শুরু হয়, আমরা ৩০০ জন সংসদ সদস্যকেই প্রশ্নবিদ্ধ করব।’
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির সংস্কার বাস্তবায়ন বিষয়ক উপকমিটির উপপ্রধান সারোয়ার তুষার বলেন, দলটি শুরু থেকেই সংবিধান ও রাষ্ট্র কাঠামো সংস্কার নিয়ে কাজ করেছে।
তিনি বলেন, ‘যখন আইনি ভিত্তি নিশ্চিত হচ্ছিল না জুলাই সনদের, তখন আমরা এটা সাইন করা থেকে বিরত থেকেছি। আমাদের এই অবস্থানের কারণেই পরবর্তীতে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি করা হয়।’
সারোয়ার তুষার বলেন, ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশকে যদি অবৈধ বলার চেষ্টা থাকে, সেটা প্রকারান্তরে নির্বাচনের বৈধতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে।’
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রথম অধিবেশনেই সিদ্ধান্ত নেবেন কিভাবে সংস্কার পরিষদের শপথ নেবেন এবং কিভাবে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করবেন। এর কোনো অন্যথা নেই।’
বিচার ব্যবস্থাকে রাজনীতিকরণ না করতেও সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।


