কক্সবাজারের টেকনাফে এক জেলের জালে ৬৮৭টি লাল কোরাল মাছ ধরা পড়েছে। এসব মাছ ১০ লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে।
বুধবার বিকালে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপের মিস্ত্রিপাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ জাকারিয়ার ট্রলারে এসব মাছ ধরা পড়ে।
জানা গেছে, মোহাম্মদ জাকারিয়া মালিকানাধীন ট্রলারটি শাহপরীর দ্বীপের মিস্ত্রিপাড়া মৎস্য ঘাট থেকে বঙ্গোপসাগরের উদ্দেশে যাত্রা করে। মাঝি আবুল কালামের নেতৃত্বে নয়জন মাঝিমাল্লা সেখানে ছিলেন।
সেন্ট মার্টিন দ্বীপের উত্তরপাশে সেন্ট মার্টিন চ্যানেলে ট্রলারটি নোঙর করে জাল ফেলা হয়। বুধবার বিকালে জালে ধরা পড়ে বিপুল পরিমাণ লাল কোরাল মাছ। প্রতিটি মাছের ওজন দেড় থেকে চার কেজি। এরপর মাছ নিয়ে সন্ধ্যার আগে শাহপরীর দ্বীপ মিস্ত্রিপাড়া ফিশারিঘাটে ট্রলারটি ফিরে আসে।
মোহাম্মদ জাকারিয়া জানান, ধরা পড়া ৬৮৭টি মাছের মধ্যে ১০টি রেখে বাকি ৬৭৭টি বিক্রি করা হয়েছে। প্রথমে মণপ্রতি ২৪ হাজার টাকা দরে দাম ধরা হলেও পরে মণপ্রতি ২৩ হাজার টাকা দরে বিক্রি করা হয়েছে।
স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী রহিম উল্লাহ বলেন, মাছগুলো বরফ দিয়ে মিস্ত্রিপাড়া মৎস্য ঘাটে সংরক্ষণ করা হয়েছে। সেখান থেকে কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের বাজারে পাঠানো হবে। সুস্বাদু হওয়ায় কোরাল বা ভেটকি মাছের দেশব্যাপী ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। গভীর সমুদ্রের মাছ হওয়ায় এটি সব সময় বাজারে পাওয়া যায় না। ফলে দাম তুলনামূলক বেশি রয়েছে।
শাহপরীর দ্বীপ মিস্ত্রিপাড়া মাছ ধরার নৌকা মালিক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ হাসান বলেন, এতদিন সাগরে মাছ পাওয়া যাচ্ছিল না। তবে, বুধবার থেকে ভালো মাছ পাওয়া যাচ্ছে। অন্য জেলেরাও লাল কোরাল ধরতে সেন্ট মার্টিন চ্যানেলে জাল ফেলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
টেকনাফ উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা উমূল ফারা বেগম তাজকিরা বলেন, কোরাল কিংবা ভেটকি মাছ অত্যন্ত সুস্বাদু হওয়ায় এর চাহিদা সারা দেশে রয়েছে। প্রজনন মৌসুমসহ সরকারের বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার কারণে বর্তমানে সাগরে বড় আকারের কোরাল মাছ পাওয়া যাচ্ছে।


