জুবায়ের তানিন, দুবাই থেকে
পাওয়ারপ্লেতে অভিষেক শর্মার আর শুবমান গিল ঝড় তুলবেন ব্যাপারটা অনুমিতই ছিল। প্রথম ছয় ওভারে ৭২, ওপেনিং জুটিতে ৭৭। দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সুপার ফোরের ম্যাচে ভারত যেভাবে শুরু করেছিল, তাতে ২০০ হয়ে যাওয়াটাও অস্বাভাবিক কিছু হতো না। সেখান থেকে মিডল ওভারে লাগাম টেনেছেন রিশাদ হোসেন। সাথে ছিলেন তানজিম হাসান সাকিব।
মঙ্গলবার শুরুর বেধড়ক মার সামলে ভারতের মতো দলকে ৬ উইকেটে ১৬৮ রানে আটকে রাখতে পারাটাও বাংলাদেশের বোলিং ইউনিটের কৃতিত্বই বটে। শেষ ওভারে মাত্র চার রান দিয়েছেন নিজের তিন ওভারে ৩৩ রান দেয়া সাইফউদ্দিন, উইকেটও পেয়েছেন একটা। আরো একটা পরিসংখ্যান জানিয়ে রাখা ভালো, শেষ ৫৩ বলে ভারত মাত্র ৫৬ রান তুলেছে, তাও তিন উইকেট হারিয়ে।
অথচ সুপার ফোরের এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ছিলেন না নিয়মিত অধিনায়ক লিটন দাস। তার বদলি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন জাকের আলী অনিক। নতুন অধিনায়কের নেতৃত্বে টুর্নামেন্টের সেরা দল ভারতকে প্রথম তিন ওভারে আটকে রাখা গেলেও, শেষ তিন ওভারে দর্শক হয়েই থাকতে হলো বাংলাদেশি বোলারদের। পাঁচ চার আর চারটি ছক্কায় পাওয়ারপ্লের শেষ ১৮ বলে ৫৫ রান তোলেন দুই ওপেনার।
সপ্তম ওভারে বল করতে এসে প্রথম ডেলিভারিতে চার খেলেও এক বলের ব্যবধানে শুবমানের উইকেট নিয়েছেন রিশাদ। ফুল লেন্থ বলে তুলে মারতে গিয়ে লং অফে তানজিমের হাতে ব্যক্তিগত ২৯ রানে ক্যাচ দেন এই ডানহাতি ব্যাটার। ভাঙে ৭৭ রানের ওপেনিং জুটি।
অন্য প্রান্তে ঝড় তোলা অভিষেক তিন ছক্কা আর চারটি চারে ফিফটি পেয়েছেন ২৫ বলে। অবশ্য ব্যক্তিগত ১ রানে তানজিমের বলে জাকেরের হাতে ক্যাচ দিয়ে জীবন না পেলে এই ইনিংস খেলতে পারতেন কিনা, সেই প্রশ্নও তোলা যায় চাইলে। অভিষেক শেষ পর্যন্ত আউট হয়েছেন পয়েন্ট থেকে রিশাদের দুর্দান্ত এক থ্রোতে মোস্তাফিজের হাতে। ৩৭ বলে ৭৫ রান করেছেন এই বাঁহাতি ওপেনার, ইনিংসে পাঁচ ছক্কা আর চারটি চার। যদিও ভারতের এই ছক্কাবৃষ্টির মধ্যে বেশ আঁটসাঁট বলই করেছেন রিশাদ। নিজের দ্বিতীয় ওভারে ফিরে নিয়েছেন শিভাম দুবের উইকেটও।
অধিনায়ক সূর্যকুমারও ইনিংস বড় করতে পারেননি আজ। মোস্তাফিজের ১৫০ নম্বর টি-টোয়েন্টি উইকেট হিসেবে আউট হয়েছেন অধিনায়ক জাকেরের হাতে ক্যাচ দিয়ে। তিলক ভার্মাকে থামিয়েছেন প্রথম তিন ওভারে মাত্র ১৫ রান দেয়া তানজিম। চার ওভারের স্পেল শেষ করেছেন ২৮ রানে ১ উইকেট নিয়ে। শেষদিকে চারটি চার ও এক ছক্কায় ২৯ বলে ৩৮ রানে আউট হয়েছেন হার্দিক পান্ডিয়া।


