দীর্ঘ দুই দশক পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে নেমে ডারউইনের টিআইও স্টেডিয়ামে প্রথম দিনেই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছে বাংলাদেশ। ডানহাতি পেসার হাসান মাহমুদের ক্যারিয়ারসেরা ৬ উইকেটের তোপে অস্ট্রেলিয়াকে মাত্র ১৯৮ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পর ব্যাট হাতেও সলিড সূচনা করেছে সফরকারীরা। প্রথম দিন শেষে ১ উইকেটে ৯৬ রান তুলে প্রতিপক্ষের প্রথম ইনিংসের রান থেকে ১০২ রানে পিছিয়ে থেকে শক্ত অবস্থানে দিন শেষ করেছে বাংলাদেশ।
বৃহস্পতিবার সকালে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। তবে ডারউইনের কন্ডিশনকে কাজে লাগিয়ে ম্যাচের শুরু থেকেই স্বাগতিকদের চাপে রাখেন বাংলাদেশি বোলাররা। বোলারদের সুনিয়ন্ত্রিত বোলিং ও সুইংয়ের সামনে শুরু থেকেই চরম পরীক্ষায় পড়েন অজি ব্যাটাররা। সফরকারীদের পক্ষে প্রথম আঘাত হানেন হাসান মাহমুদ, ওপেনার জেক ওয়েদারাল্ডকে ২৩ রানে প্যাভিলিয়নে ফেরান তিনি। এর পরপরই মারনুস লাবুশেনকে (১) সাজঘরে পাঠান এবাদত হোসেন।
অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপের সামনে একা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন অভিজ্ঞ স্টিভ স্মিথ। তিনি ১০৯ বলে ৭টি চার ও ১টি ছক্কায় ৭১ রানের লড়াইসংগ্রামের এক ইনিংস খেলেন। তবে অন্যপ্রান্তে ট্রাভিস হেড (২২) বা অ্যালেক্স ক্যারিরা (১৯) বড় ইনিংস গড়তে ব্যর্থ হন। পুরো ইনিংসে অজিদের ওপর রাজত্ব চালিয়েছেন হাসান মাহমুদ। ১৭ ওভারে ৫৫ রান খরচায় ৬ উইকেট শিকার করে অস্ট্রেলিয়া সফর স্মরণীয় করে রাখেন এই তরুণ পেসার। পেস বোলিংয়ে তাকে যোগ্য সঙ্গ দিয়ে তাসকিন আহমেদ ও এবাদত হোসেন নেন ২টি করে উইকেট। ফলে মাত্র ৫৩ ওভারেই ১৯৮ রানে থমকে যায় স্বাগতিকদের প্রথম ইনিংস।
অস্ট্রেলিয়াকে দ্রুত অলআউট করার আত্মবিশ্বাস নিয়ে প্রথম ইনিংসে ব্যাটিং শুরু করে বাংলাদেশ। দুই উদ্বোধনী ব্যাটার সাদমান ইসলাম ও তানজিদ হাসান সতর্কতার সঙ্গে অজি পেস আক্রমণ সামাল দেন। প্রথম উইকেটে গড়ে ওঠে কার্যকর এক জুটি। সাদমান ৩০ বলে ২০ রান করে মিচেল স্টার্কের শিকারে পরিণত হলে ভাঙে ওপেনিং জুটি।
সাদমানের বিদায়ের পর ক্রিজে এসে অভিজ্ঞ মমিনুল হককে সঙ্গে নিয়ে দলের হাল ধরেন তানজিদ হাসান। অজি পেসার ও স্পিনারদের আত্মবিশ্বাসের সাথে মোকাবিলা করে দিনের বাকি সময় নিরাপদে কাটিয়ে দেন এই দুজন। দিন শেষে তানজিদ হাসান ৬৭ বলে ৩২ রানে এবং মমিনুল হক ৪৯ বলে ৩৫ রানে অপরাজিত থাকেন। দ্বিতীয় উইকেটে এই দুজনের সাবলীল ও অবিচ্ছিন্ন জুটিতে এখন বড় রানের স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ।
ডারউইনের পিচে প্রথম দিনেই বল ও ব্যাটের এমন ভারসাম্যপূর্ণ দাপট টেস্ট ইতিহাসে বাংলাদেশের অন্যতম সেরা শুরুর দিন হিসেবে চিহ্নিত থাকবে। শুক্রবার টেস্টের দ্বিতীয় দিনে এই ইতিবাচক ধারা বজায় রেখে বড় লিড গড়ে তোলাই হবে বাংলাদেশ দলের মূল লক্ষ্য।


