দক্ষ কর্মীদের জন্য নতুন অভিবাসন নীতি ঘোষণা করেছে কানাডার সরকার। বুধবার ঘোষণায় ‘অগ্রাধিকার শ্রেণি’ নামে নতুন উদ্যোগ চালু করার কথা জানান দেশটির প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়, এই অভিবাসন ব্যবস্থায় গবেষণা, স্বাস্থ্যসেবা, বিমান চলাচলসহ বিভিন্ন খাতে দক্ষ জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে। তবে এবার নির্দিষ্ট কিছু দেশ থেকে সামরিক সদস্যদেরও দক্ষ কর্মী ভিসায় নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অটোয়া।
প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি জানিয়েছেন, সরকারের নীতিগত লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তিনি সামগ্রিকভাবে কানাডায় নতুন স্থায়ী বাসিন্দার সংখ্যা কমাতে চান। একই সঙ্গে তার সরকার দক্ষ কর্মী ও গবেষক নিয়োগের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলো শক্তিশালী করতে চায়।
দক্ষ কর্মী ক্যাটাগরিতে সুযোগ পাবেন কানাডিয়ান সশস্ত্র বাহিনীতে নিয়োগপ্রাপ্ত দক্ষ বিদেশি সামরিক প্রার্থীরা। এদের মধ্যে সামরিক চিকিৎসক, নার্স ও পাইলট থাকবেন। নির্দিষ্ট বিদেশি ও দক্ষ সেনাদের ভিসা দেওয়ার বিষয়ে কার্নি বলেন, ‘এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূল লক্ষ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আমাদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানো।’
নতুন অগ্রাধিকার শ্রেণিতে আরও থাকবেন গবেষক ও জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক, পরিবহন খাতের কর্মী যেমন পাইলট ও বিমান তৈরির কারিগর। এ ছাড়া কানাডায় কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বিদেশি চিকিৎসকদেরও সুযোগ দেওয়া হবে।
কার্নি সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, অভিবাসনকে টেকসই পর্যায়ে ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পখাতে শ্রমিকের ঘাটতি পূরণ করার লক্ষ্যে অভিবাসন শ্রেণি ও নীতিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে।
গত কয়েক বছর ধরেই আবাসন ও সামাজিক সেবার ওপর চাপ কমাতে কানাডা অভিবাসীর সংখ্যা কমানোর চেষ্টা করছে।
কানাডা বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন খাতে শ্রমঘাটতির মুখে রয়েছে জানিয়ে দেশটির অভিবাসনমন্ত্রী লেনা মেটলেগ ডিয়াব বলেন, ‘২০২৬ সালে এক্সপ্রেস এন্ট্রি ব্যবস্থায় এই পরিবর্তন দক্ষ অভিবাসীদের এমনভাবে আকর্ষণ করবে, যারা “প্রথম দিন থেকেই কানাডার অর্থনীতিতে” অবদান রাখতে সক্ষম।’
ডিয়াব এক বিবৃতিতে বলেন, ‘পরিবর্তনশীল অর্থনীতির জন্য “এরইমধ্যে প্রস্তুত” এমন কর্মশক্তির ওপরই কানাডার ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে।’
নতুন অগ্রাধিকার শ্রেণির পাশাপাশি বর্তমান এক্সপ্রেস এন্ট্রি শ্রেণিগুলোও চালু থাকবে বলে জানিয়েছে অটোয়া। এর মধ্যে ফরাসি ভাষাভাষী প্রার্থী, স্বাস্থ্যসেবা কর্মী ও দক্ষ কারিগরি শ্রমিকদের জন্য আমন্ত্রণ (ইনভাইটেশন) অব্যাহত থাকবে।
এদিকে মঙ্গলবার দেশটির নতুন প্রতিরক্ষা কৌশল ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী কার্নি। তিনি জানান, আগামী এক দশকে প্রতিরক্ষা-সম্পর্কিত গবেষণা ও উন্নয়নে কানাডার সরকারি বিনিয়োগ ৮৫ শতাংশ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
সেই সঙ্গে প্রতিরক্ষা শিল্পের আয় ২৪০ শতাংশের বেশি বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিরক্ষা রপ্তানি বাড়ানো হবে ৫০ শতাংশ। একই সঙ্গে সামরিক খাতে প্রায় এক লাখ ২৫ হাজার নতুন মানসম্মত কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
ন্যাটো জোটের অন্য সদস্যদের মতো কানাডাও ২০৩৫ সালের মধ্যে মোট দেশীয় উৎপাদনের অন্তত পাঁচ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।


