মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান অপরাধের ন্যায়বিচারের অপেক্ষা যেন শেষই হচ্ছে না। চার মাস ধরে বিচারক না থাকায় থমকে আছে মানবপাচারের মতো গুরুতর অপরাধের বিচার।
মানবপাচার ও অভিবাসী পাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে বর্তমানে প্রায় এক হাজার ১০০টি মামলা বিচারাধীন থাকলেও গত চার মাসে রায় হয়েছে কেবল দুইটির। এতে দীর্ঘসূত্রতায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বিচারপ্রার্থীদের। বিলম্বিত হচ্ছে ন্যায়বিচার।
আদালত সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ৯ মার্চ ট্রাইব্যুনালের বিচারককে আইন মন্ত্রণালয়ে বদলি করার পর থেকে চার মাসেরও বেশি সময় ধরে পদটি শূন্য রয়েছে। এ সময়ে নতুন কোনো বিচারক নিয়োগ না হওয়ায় বিচারাধীন মামলাগুলোর শুনানি ও নিষ্পত্তি বিলম্বিত হচ্ছে। অধিকাংশ মামলাতেই একের পর এক নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হচ্ছে, যা বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
স্থায়ী বিচারক না থাকায় ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে ট্রাইব্যুনালটির বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তবে নিজ আদালতের মামলার চাপের কারণে তিনি নিয়মিত সময় দিতে পারছেন না। ফলে এই বিশেষায়িত ট্রাইব্যুনালে স্বাভাবিক গতিতে মামলা পরিচালনা ও নিষ্পত্তি সম্ভব হচ্ছে না, আর মামলার জটও ক্রমেই বাড়ছে।
সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. মুস্তফা কামাল খান বলেন, ‘গত চার মাস ধরে ট্রাইব্যুনালে কোনো স্থায়ী বিচারক না থাকায় ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের একজন বিচারক অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে আদালতের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। বিচারক নিয়োগের বিষয়ে আমি আইন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেছি। সেখান থেকে আমাকে জানানো হয়েছে, শিগগিরই একজন স্থায়ী বিচারক নিয়োগ দেওয়া হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘গত চার মাস ধরে জেলা জজ আদালতেই মানবপাচার ট্রাইব্যুনালের মামলার বিচারকার্য পরিচালনা করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে জেলা জজ আদালতের নিজস্ব বিপুলসংখ্যক মামলার কার্যক্রমও চলমান থাকায় মানবপাচারের মামলাগুলোর বিচার কিছুটা ধীরগতিতে এগোচ্ছে। তবে জেলা ও দায়রা জজ নিজ আদালতের কার্যক্রম শেষে মানবপাচারের মামলাগুলোও নিষ্ঠার সঙ্গে পরিচালনার চেষ্টা করছেন।’
আদালত সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে সারা দেশে মানবপাচার ও অভিবাসী পাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালগুলোতে প্রায় চার হাজার মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে শুধু ঢাকার ট্রাইব্যুনালেই বিচারাধীন মামলার সংখ্যা প্রায় এক হাজার ১০০।
ঢাকা মহানগর আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর উমর ফারুক ফারুকী বলেন, ‘মানব পাচার ট্রাইব্যুনালটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই আদালতে বিচারক আগে নিয়মিত ছিল কিন্তু পদোন্নতির কারণে বিচারক নেই। অন্য একটি আদালতে এটার বিচারকার্য চলছে। বিচারক নিয়োগের ব্যাপারে হাইকোর্টের সিদ্ধান্তও লাগে। হয়তো কিছু দিনের মধ্যে বিচারক নিয়োগ হয়ে যাবে। সাময়িক অসুবিধা হচ্ছে আর কি তবে কিছু দিনের মধ্যেই লাঘব হয়ে যাবে।’


