স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে নির্বাচন কমিশন (ইসি) আইন সংশোধনের যে প্রস্তুতি নিয়েছে, তাতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) অভিযুক্তদের প্রার্থী হতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হচ্ছে।
দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা নাগরিকদেরও এই নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য ঘোষণার চিন্তা করছে কমিশন। ইতোমধ্যে আইনের সংশোধনীর খসড়া প্রস্তুত হয়েছে। আগামী মঙ্গলবার কমিশন সভায় অনুমোদন পেলে তা সরকারের কাছে পাঠানো হবে।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ২০সি ধারায় অভিযোগপত্রভুক্ত ব্যক্তিদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার বিধান আগে থেকেই রয়েছে। তবে এতদিন সেটি স্থানীয় সরকার আইনে যুক্ত ছিল না। এখন সেই বিধান যুক্ত করা হচ্ছে।’
তবে ট্রাইব্যুনাল থেকে অব্যাহতি বা খালাস পেলে সেই অযোগ্যতা আর থাকবে না বলে জানান তিনি।
এর মাধ্যমে নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াবে কি না-এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এটি দলীয় নির্বাচন নয়। আইন অনুযায়ী যাদের যোগ্যতা রয়েছে, তারা সবাই নির্বাচন করতে পারবেন।
মন্ত্রী ও এমপিদের স্থানীয় নির্বাচনে প্রচারে নিষেধাজ্ঞা এবং আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ভোট থেকে দূরে রাখার যে প্রস্তাব জামায়াতে ইসলামী দিয়েছে, তা নিয়ে কমিশন এখনো কোনো সিদ্ধান্তে আসেনি।
জামায়াতের সুপারিশ প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, এটি দলীয় নির্বাচন নয়, তাই আইন অনুযায়ী যোগ্যতা থাকলে যে কেউ নির্বাচন করতে পারবেন।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্থানীয় নির্বাচনও দলীয় প্রতীকে হতো। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেই সিদ্ধান্ত হয়, এই নির্বাচন দলের প্রতীক ছাড়া হবে। এ কারণে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পক্ষে ভোটে অংশ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ টাইমসকে বলেন, এই নির্বাচন তো দলভিত্তিক নয়। সংসদে সংশোধিত আইন অনুযায়ী রাজনৈতিক দলের ব্যানারে এবার স্থানীয় সরকারের নির্বাচন হবে না।
আচরণবিধিমালা সংশোধনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা পাঁচটা (সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ) আচরণ বিধিমালা ঠিক করে মতামত দেওয়ার জন্য ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছিলাম। এতে আমরা কিছু প্রস্তাবনা পেয়েছি। সেগুলো আমরা সচিবালয় পর্যায়ে কর্মকর্তা পর্যালোচনা করেছি। এখন কমিশনে উপস্থাপন করা হবে। কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
আইন সংশোধনের পর নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালার কাজ শুরু করার কথাও জানান তিনি। বলেন, সেই বিধিমালা সরকারের কাছে পাঠানো হবে কি না, সেটি কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে।
কর্মকর্তারা জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত করতে চায় কমিশন, যাতে প্রয়োজনে এই নির্বাচনে সেনা সদস্যদের মোতায়েন করা যায়। কারণ এর আগে ২০১১ সালে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কমিশন সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে চাইলেও তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার তা দেয়নি।
স্থানীয় নির্বাচনে এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের নির্বাচনে অযোগ্য করার চিন্তাও আছে।
কর্মকর্তারা মনে করেন, স্কুল-কলেজের শিক্ষকরা নির্বাচনে অংশ নিলে যেমন অন্যান্য শিক্ষকদের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, আবার এসব শিক্ষকরা বিজয়ী হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রভাব পড়ে। তাই এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে চাকরি ছেড়ে করার পক্ষে তারা।
এ ছাড়া ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের অংশীদার পরিচালক এবং ঋণখেলাপিদের গ্যারান্টারদের প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য ঘোষণা করা হবে। হলফনামায় ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য দিলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের বিধানও যুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে।


