ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর তিন সপ্তাহ পরেও বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। বিক্রেতারা বলছেন, কোম্পানির লোকজন আবার দাম বাড়ানোর আভাস দিচ্ছেন।
গত ২ সেপ্টেম্বর প্রতি লিটার বোতলজাত তেলের দাম ৫ টাকা বাড়ানোর অনুমোদন দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। কোম্পানিগুলো ১০ টাকা করে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়ে আগের কয়েক সপ্তাহ সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছিল। সেই সরবরাহ এখনো স্বাভাবিক হয়নি।
কারওয়ানবাজারের কিচেন মার্কেটের বিক্রেতা উসমানি হোসেন টাইম অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘ডিলাররা আকারে-ইঙ্গিতে বুঝিয়েছেন যে তেলের দর আরও বাড়ানোর জন্য তারা সরকারকে চিঠি দিয়েছেন। এ কারণেই বাজারে তেল ছাড়ছে কম।’
জ্বালানি তেলের বাড়তি দরের সঙ্গে এই পরিস্থিতির সম্পর্ক আছে কিনা, তা জানা যায়নি। তবে লিটারপ্রতি ২০ টাকা দাম বাড়ানোর পর প্রথম শুক্রবার রাজধানীর বাজারে নিত্যপণ্যের দামে নতুন করে চাপ দেখা গেছে। পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির অজুহাতে অধিকাংশ সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
ভোক্তাদের অভিযোগ, প্রকৃত পরিবহন ব্যয়ের তুলনায় অনেক বেশি দামে পণ্য বিক্রি হলেও কার্যকর বাজার তদারকির অভাব রয়েছে।
গত ২০ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেনের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়ানোর ঘোষণা আসে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এ কারণে পণ্য পরিবহনে খরচ বেড়েছে।
কারওয়ানবাজারের খুচরা বিক্রেতা ইউসুফ রহমান বলেন, ‘তেলের দাম বাড়ায় ট্রাক ভাড়া ও পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। যার প্রভাবে বিশেষ করে সবজির দাম বেড়েছে।’
ট্রাকচালক সোহান ইসলাম টাইমসকে বলেন, ‘ময়মনসিংহ থেকে কারওয়ান বাজারে ট্রাক ভাড়া ভাড়া ছিল ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা, এখন তা বেড়ে ১২ থেকে ১৪ হাজার টাকা হয়েছে।’
রামপুরা কাঁচাবাজারের সবজি বিক্রেতা মো. রিয়াজ বলেন, তেলের দাম বাড়ার আগে যশোর থেকে সবজি নিয়ে আসা মাঝারি ট্রাকের ভাড়া ছিল ১৮ হাজার টাকা, যা এখন ২০ হাজার টাকা হয়েছে।
তবে ক্রেতাদের একজন খালিদ হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে, সেটার প্রভাবে পণ্যে ১ থেকে ২ টাকা বাড়তে পারে। একবারেই যে ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়ে যাবে, এমনটা হওয়ার কথা নয়।’
ভোক্তা অধিকার সংস্থা কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) সভাপতি এএইচএম সফিকুজ্জামান বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা মনগড়া দাম বাড়িয়ে ভোক্তার ওপর বাড়তি বোঝা চাপাচ্ছে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে কেজিতে পরিবহন খরচ হয়ত ১৫ থেকে ২৫ পয়সা বাড়তে পারে। কিন্তু এই অজুহাতে ব্যবসায়ীরা বাড়তি সুযোগ নিচ্ছে।’
মেরুল বাড্ডা কাঁচাবাজারে আসা ক্রেতা সম্রাট তালুকদার বলেন, ‘বেশিরভাগ সবজিই আজ ৮০ টাকার ঘরে। শিম ২০০ টাকা আর বেগুন ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সবচেয়ে কম দামে কেবল পেঁপে পেলাম, ৩০ টাকা কেজি।’
শীতের সবজির শিমের দাম এখন সবচেয়ে বেশি, এরপরেই বেগুনের অবস্থান। পটল ও ঢ্যাঁড়শ, করলাম দাম কেজিপ্রতি বেড়েছৈ ১০ থেকে ২০ টাকা। কাঁচামরিচের দাম বছরের এই সময়ে ২০০ টাকা অস্বাভাবিক, বলছেন বিক্রেতারাই।
ভরা মৌসুমেও সাধারণ ক্রেতার নাগালের বাইরে ইলিশ। মেরুল বাড্ডা-কারওয়ানবাজারে ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের মাছের দাম প্রতি কেজি ১ হাজার ৫০০ টাকা দরে। ১ কেজি বা তার চেয়ে বড় হলে দাম ২ হাজার ২০০ টাকা।
উত্তর বাড্ডা বাজারে আসা সোবহান করিম প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘৮০০ থেকে ৯০০ গ্রামের একটি মাছ কিনতে ১ হাজার ৩০০ টাকা চলে যায়। এত খরচ করলে অন্য বাজার কী করব?’
রিংকু সিকদার বলেন, ‘সংসারের অন্য খরচ মিটিয়ে ২ হাজার টাকায় মাছ কেনা সম্ভব নয়।’
ভারত থেকে আসা ইলিশের দাম কম হলেও স্বাদ নিয়ে অসন্তুষ্ট ক্রেতারা। মো. সিদ্দিকুর বলেন, ‘ভারতীয় ইলিশ খেয়ে ভালো লাগেনি।’
‘গরিবের মাছ’ হিসেবে পরিচিত তেলাপিয়া গতকাল সুপার শপ স্বপ্নতে বিক্রি হয়েছে ২৭০ টাকা কেজি দরে। খুচরা বাজারে তা ২০০ টাকা বা তার চেয়ে বেশি। পাঙ্গাশের কেজিও ২০০ টাকার ঘরে।
কই, সিলভার কার্প বা মিনার কার্প, স্বল্প আয়ের মানুষদের ভরসা যেসব মাছে, সেগুলোর এমন দর কষ্ট দিচ্ছে ক্রেতাদের।
বাজারভেদে ব্রয়লার মুরগি ১৮৫ থেকে ১৯৫ টাকা কেজি দরেও বিক্রি হতে দেখা গেছে। হাইব্রিড সোনালি মুরগির দামই কেজিতে ৩০০ টাকা।
ব্রয়লার মুরগির দাম ডজনে আরও ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়ে ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকা ছুঁয়েছে। হাঁসের ডিমের ডজন এখন ২৪০ টাকা।


