ভারত থেকে বাংলাদেশে ইলিশ আমদানি বন্ধ হয়ে গেছে। মৎস্য অধিদপ্তর ১০৩টি অনাপত্তি সনদ (এনওসি) বাতিল করায় বুধবার থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে।
হঠাৎ করে আমদানি বন্ধ হওয়ায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন আমদানিকারকেরা। তবে কী কারণে এসব এনওসি বাতিল করা হয়েছে, তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি মৎস্য অধিদপ্তর।
মৎস্য অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মো. খালেদ কনকের সই করা এক চিঠিতে গত মঙ্গলবার ১০৩টি অনাপত্তি সনদ বাতিল করা হয়। এর পর থেকেই ভারত থেকে ইলিশ আমদানির প্রক্রিয়া বন্ধ রয়েছে। চলতি অর্থবছরে ভারত থেকে এক হাজার ৭৩৯ দশমিক ৫০ মেট্রিক টন ইলিশ আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে মঙ্গলবার পর্যন্ত বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি হয়েছে ৫৩৫ মেট্রিক টন।
সংশ্লিষ্টদের ধারণা, আমদানি করা ভারতীয় ইলিশকে দেশীয় বা পদ্মার ইলিশ হিসেবে বিক্রি করে ক্রেতাদের সঙ্গে প্রতারণা, কম মূল্য দেখিয়ে আমদানির মাধ্যমে অর্থ পাচারের আশঙ্কা এবং দেশীয় ইলিশ উৎপাদনে আগ্রহ বাড়ানোর বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে আমদানি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকতে পারে।
বন্দর সংশ্লিষ্টরা জানান, তুলনামূলক বেশি লাভের আশায় সাম্প্রতিক সময়ে ভারত থেকে ইলিশ আমদানি বেড়ে যায়। আমদানির সময় প্রতি কেজি ইলিশের মূল্য ৪৮ সেন্ট থেকে দুই মার্কিন ডলার পর্যন্ত দেখানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। নির্ধারিত রাজস্ব পরিশোধ করে বন্দর থেকে এসব মাছ ছাড় করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রতি কেজি প্রায় ৫০০ টাকার মধ্যে আমদানি করা ইলিশ বাজারে পদ্মার ইলিশ হিসেবে দুই হাজার থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি করা হয়েছে।
যশোর শহরের লোন অফিস পাড়ার সাধারণ ক্রেতা অমেদুল ইসলাম বলেন, ‘আমদানিকৃত ভারতীয় ইলিশ দেখতে বাংলাদেশের পদ্মার ইলিশের মতো হওয়ায় সাধারণ ক্রেতারা বিভ্রান্ত হচ্ছেন। স্বাদে কিছুটা পার্থক্য থাকলেও বাহ্যিক মিলের কারণে অনেকেই ভারতীয় ইলিশকে দেশি মাছ মনে করে কিনছেন। অথচ কম দামে আমদানি করা এসব মাছ বাজারে আড়াই হাজার থেকে তিন হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।’
সম্প্রতি বাজার তদারকির সময় চড়া দামে ভারতীয় ইলিশ বিক্রির অভিযোগে কয়েকজন বিক্রেতাকে জরিমানা করেছে জেলা প্রশাসন। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, বাজারে ভারতীয় ইলিশের সরবরাহ বাড়লে দেশীয় ইলিশ আহরণে জেলেদের আগ্রহ কমে যেতে পারে। এ ছাড়া আমদানির ক্ষেত্রে প্রকৃত মূল্যের চেয়ে কম মূল্য দেখিয়ে পণ্য আনার মাধ্যমে ‘আন্ডার ইনভয়েসিং’ করে অর্থ পাচারের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
ইলিশ আমদানিকারক সৈয়দ মহিদুল হক রুবাই জানান, হঠাৎ করে আমদানি বন্ধ করায় তারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। আমদানির উদ্দেশ্যে ভারতের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কেনা ইলিশ সেখানে মজুত রাখা হয়েছিল। এখন সেগুলো কম দামে ফেরত দিতে হবে। এর পাশাপাশি আমদানির জন্য এরইমধ্যে করা ব্যয়ের লোকসানও গুনতে হবে।
বেনাপোলের মৎস্য ও মান নিয়ন্ত্রণ অফিসের পরিদর্শক আসাওয়াদুল ইসলাম বলেন, ‘মৎস্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় ভারত থেকে ইলিশ আমদানি বন্ধ রাখা হয়েছে। আমদানি বন্ধ হওয়ায় বেনাপোলের বাজারে ভারতীয় ইলিশের সরবরাহও বন্ধ রয়েছে। চলতি বছরে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ৫৩৫ মেট্রিক টন ইলিশ আমদানি হয়েছে।’
এদিকে ১০৩টি অনাপত্তি সনদ বাতিলের পর অবশিষ্ট অনুমোদনের আওতায় ইলিশ আমদানি করা যাবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছেন তারা। ফলে আমদানি বন্ধের কারণে বাজারে ভারতীয় ইলিশের সরবরাহ কত দিন বন্ধ থাকবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।


