স্থানীয় সরকারের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনের জন্য ৩৭০ কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
তিনি বলেন, ‘রাস্তাঘাট, ড্রেন, কালভার্টের মতো সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনও সরকারের উন্নয়নমূলক কাজ হওয়ায় এ খাতে ব্যয় করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
বুধবার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন দপ্তর, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানসমূহে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপন বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, সরকারের বরাদ্দের এই অর্থে সিটি করপোরেশন, উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন এবং জেলা পরিষদ প্রাথমিকভাবে প্রায় ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরি হবে।
এর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজস্ব রাজস্ব থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ ব্যয় করে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা আরও বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এভাবে মোট উৎপাদন প্রায় ৩০০ মেগাওয়াটে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর ছাদকে কাজে লাগিয়ে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি এসব প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ ব্যয়ও কমানো সম্ভব হবে। উৎপাদিত বিদ্যুতের প্রায় ১৫০ মেগাওয়াট নিজেদের ব্যবহারে রেখে অতিরিক্ত প্রায় ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ নেট মিটারিং ব্যবস্থার মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি জানান, প্রতিটি ইউনিয়নে ৩ লাখ ৫০ হাজার করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে যার মাধ্যমে সাড়ে ৫ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা অতিরিক্ত বিদ্যুৎ প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে বিক্রির হিসাব করা হয়েছে। ফলে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো শুধু বিদ্যুতের ব্যয় সাশ্রয় করবে না, বরং অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিক্রি করে নিজস্ব রাজস্বও আয় করতে পারবে।
মীর শাহে আলম বলেন, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে যে অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে, তা দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা যায়।
নিজেদের প্রয়োজন মেটানোর পর অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হলে তিন থেকে চার বছরের মধ্যেই প্রাথমিক বিনিয়োগের অর্থ উঠে আসবে। পরে উৎপাদিত বিদ্যুৎ থেকে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়মিত রাজস্ব আয়ের সুযোগ তৈরি হবে।
অর্থ বরাদ্দের খাতভিত্তিক বিভাজন তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের জন্য ১২০ কোটি টাকা, সিটি করপোরেশনের জন্য ৭৫ কোটি টাকা, উপজেলা পরিষদের জন্য ৯৯ কোটি টাকা, পৌরসভার জন্য ৬৪ কোটি টাকা এবং জেলা পরিষদের জন্য ১২ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
স্থানীয় সরকারের এসব প্রতিষ্ঠানের আওতাধীন স্থাপনাগুলোতে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনে এই অর্থ ব্যয় করা হবে।


