মূল্যস্ফীতি রোধে টাকা ছাপানো বন্ধ ও ১০০০ টাকার নোট বাতিলের দাবি

মূল্যস্ফীতি রোধে টাকা ছাপানো বন্ধ ও ১০০০ টাকার নোট বাতিলের দাবি
প্রতীকী ছবি
Advertisement
Advertisement

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে স্বর্ণ, রৌপ্য ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছাড়া নতুন টাকা ছাপানো বন্ধ এবং কালোটাকার বিস্তার রোধে ১০০০ টাকার নোট বাতিলের দাবি জানিয়ে আইনি নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন এই নোটিশ পাঠান। মন্ত্রিপরিষদ সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সচিব এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

নোটিশে দাবি করা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংক কোনো ধরনের রিজার্ভ বা ব্যাকআপ ছাড়া অর্থনীতিতে ক্রমাগত কৃত্রিম টাকা বা আনব্যাকড পেপার কারেন্সি সরবরাহ করছে। নোটিশদাতার দাবি, অর্থনীতি ও মুদ্রানীতির সর্বজনীন নিয়ম অনুযায়ী নতুন টাকা ছাপানোর ক্ষেত্রে সমপরিমাণ স্বর্ণ, রৌপ্য অথবা ডলার, ইউরো ও আরএমবির মতো নির্ভরযোগ্য বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থাকা বাধ্যতামূলক।

তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত মুদ্রানীতি নথিতে মূল্যস্থিতি রক্ষা ও মুদ্রানীতি পরিচালনার বিভিন্ন কাঠামোর কথা বলা হয়েছে; কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নথিতে মুদ্রা সরবরাহকে কেবল স্বর্ণ বা রৌপ্যের সমপরিমাণ রিজার্ভের সঙ্গে আবদ্ধ করার এমন নিয়মের উল্লেখ পাওয়া যায় না।

নোটিশে বলা হয়েছে, রিজার্ভ ছাড়া ইচ্ছেমতো টাকা ছাপানোর ফলে কোয়ান্টিটি থিওরি অব মানি অনুযায়ী টাকার ক্রয়ক্ষমতা কমছে এবং এর প্রভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ছে। নোটিশের ভাষ্য, এর ফলে দেশে ভয়াবহ মূল্যস্ফীতি তৈরি হচ্ছে।

নোটিশে বলা হয়েছে, লাগামহীন মূল্যস্ফীতির কারণে দরিদ্র, নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মানুষের খাবারসহ জীবনযাপনের প্রয়োজনীয় ব্যয় বহনের সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সংবিধানে বর্ণিত জীবনধারণের অধিকার কেবল বেঁচে থাকার অধিকার নয়, বরং মর্যাদাপূর্ণভাবে বেঁচে থাকার অধিকার, এমন ব্যাখ্যা দিয়ে নোটিশে দাবি করা হয়েছে, স্বর্ণ ও রৌপ্যের মতো সম্পদের ব্যাকআপ ছাড়া টাকা ছাপিয়ে সৃষ্ট চরম অর্থনৈতিক সংকটে সাধারণ মানুষকে খাদ্যাভাবে ধুঁকে ধুঁকে মরতে বাধ্য করা হলে তা ওই মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন হবে।

আরও পড়ুন

১০০০ টাকার নোট বাতিলের দাবি

নোটিশে ১,০০০ টাকার নোটের বিরুদ্ধেও যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সাধারণ মানুষ, দিনমজুর ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের দৈনন্দিন লেনদেনে এত বড় মূল্যমানের নোটের বাস্তব প্রয়োজন নেই। নোটিশদাতার দাবি, উচ্চমূল্যের এই নোট দুর্নীতিবাজ চক্র, কর ফাঁকিদাতা ও অপরাধীদের অবৈধ অর্থ ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে সংরক্ষণের সুযোগ তৈরি করে এবং এর মাধ্যমে একটি শ্যাডো ইকোনমি বা ছায়া অর্থনীতি গড়ে উঠেছে।

নোটিশে প্রতিবেশী ভারতের ২,০০০ রুপির নোট প্রত্যাহারের উদাহরণ তুলে ধরে বলা হয়েছে, কালোটাকার মজুত ধ্বংস এবং লেনদেনে স্বচ্ছতা ফেরাতে বাংলাদেশেও ১,০০০ টাকার নোট বাতিল করা প্রয়োজন।

১৫ দিনের সময়

আইনি নোটিশে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে স্বর্ণ, রৌপ্য ও বৈদেশিক মুদ্রার যথাযথ রিজার্ভ ছাড়া নতুন টাকা ছাপানো সম্পূর্ণ বন্ধ এবং কালোটাকার মজুত ধ্বংসের লক্ষ্যে ১,০০০ টাকার নোট বাতিলের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব পদক্ষেপ নেওয়া না হলে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনধারণের অধিকার রক্ষায় হাইকোর্ট বিভাগে জনস্বার্থে রিট করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad