টাইফুন দুজুয়ানে জাপানে নিহত ৪, নিখোঁজ ৬

টাইফুন দুজুয়ানে জাপানে নিহত ৪, নিখোঁজ ৬
রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিতে জাপানের বিভিন্ন অঞ্চলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। ছবি: এপির ভিডিও থেকে
Advertisement
Advertisement

জাপানের পূর্বাঞ্চলে টাইফুন ‘দুজুয়ান’এর প্রভাবে রেকর্ড বৃষ্টিপাতের পর ভূমিধস ও বন্যায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। নিখোঁজ রয়েছেন আরও অন্তত ছয়জন।

জাপানের আবহাওয়া সংস্থা (জেএমএ) জানায়, প্রবল বৃষ্টিতে বিভিন্ন এলাকায় ভূমিধস, জলাবদ্ধতা ও পরিবহনব্যবস্থায় ব্যাপক বিঘ্ন ঘটেছে। সোমবার ইজু দ্বীপপুঞ্জের ওশিমাসহ কয়েকটি এলাকায় ভূমিধসের বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়।

জাপান টাইমসের খবরে জানানো হয়, চিবা ও কানাগাওয়া প্রদেশে পুলিশ, দমকল বাহিনী সদস্যরা উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছেন। কানাগাওয়ার ইয়োকোসুকা শহরে ভূমিধসে একটি বাড়ির নিচতলায় কাদা ও ধ্বংসাবশেষ ঢুকে পড়ার পর ৬৪ বছর বয়সী এক নারীকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

এর প্রায় এক কিলোমিটার দূরে আরেকটি ভূমিধসে বৃদ্ধ এক দম্পতি নিখোঁজ হন। পাশের মিউরা শহরেও আরও দুজন নিখোঁজ রয়েছেন। সেখানে একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের নিচতলায় কাদা ও ধ্বংসাবশেষ ঢুকে পড়ার পর ২০ বছরের এক নারীর খোঁজ পাওয়া যায়নি। অন্য একটি এলাকায় ভূমিধসে ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর আরও এক নারী নিখোঁজ হন।

চিবা প্রদেশের সোদেগাউরা শহরে কাদা ও ধ্বংসাবশেষ সরানোর সময় ভারী যন্ত্রপাতিসহ বাঁশঝাড়ে পড়ে ৫১ বছর বয়সী এক শ্রমিক নিহত হন।
চিবার কামোগাওয়া শহরে সত্তরের কোঠার এক নারী এবং সানমু শহরে আশির কোঠার আরেক নারী ভূমিধসের কারণে বাড়ি ধসে নিহত হয়েছেন। কামোগাওয়ায় আরও দুই ব্যক্তি নিখোঁজ রয়েছেন।

আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, মঙ্গলবার দুপুরে টাইফুন দুজুয়ান জাপানের পূর্বদিকে অবস্থান করছিল। ঝড়টি প্রশান্ত মহাসাগরের দিকে সরে গেলেও বিপদ পুরোপুরি কাটেনি। অতিবৃষ্টিতে নদীগুলোর পানি বেড়েছে। বৃষ্টিতে মাটি ভিজে নরম হয়ে যাওয়ার ফলে বৃষ্টি থেমে যাওয়ার পরও ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে।

আরও পড়ুন

মঙ্গলবার পর্যন্ত গত ৪৮ ঘণ্টায় টোকিওর ইজু দ্বীপপুঞ্জের ওশিমায় ৮৩২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়, যা সেখানে সর্বোচ্চ রেকর্ড। একই সময়ে টোকিওর এদোগাওয়া ওয়ার্ডের রিনকাই এলাকায় ৩২৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

চিবার কিমিতসু শহরের সাকাহাতা এলাকায় ৪৮ ঘণ্টায় ৪৭৬ দশমিক ৫ মিলিমিটার এবং ইচিহারা শহরে ৪৮৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

কানতো অঞ্চলে ভূমিধসের বিষয়ে উচ্চ সতর্কতা বজায় রাখার পাশাপাশি নিচু এলাকায় বন্যা এবং নদীর পানি বৃদ্ধি বা উপচে পড়ার বিষয়ে সতর্ক থাকতে বাসিন্দাদের আহ্বান জানিয়েছে জানানো হয়েছে।

টাইফুনের প্রভাবে মঙ্গলবার সকালেও বিদ্যুৎ সরবরাহ ও রেল যোগাযোগ ব্যাহত হয়। টোকিও ইলেকট্রিক পাওয়ার গ্রিডের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত চারটি প্রদেশের প্রায় ৪৮ হাজার ৩২০টি পরিবার বিদ্যুৎহীন ছিল। এর বেশির ভাগই চিবা প্রদেশে।

ইস্ট জাপান রেলওয়ের সোব্যু, নারিতা ও সোতোবো লাইনের কয়েকটি অংশে ট্রেন চলাচল বন্ধ বা বাতিল করা হয়। কেইকিউ রেলওয়েও কয়েকটি রুটে সেবা স্থগিত রাখে।

টোকিওর ওতা ওয়ার্ডের হানেদা এলাকায় ৪৮ ঘণ্টায় ২৬১ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে, যা সেখানে সর্বোচ্চ রেকর্ড। এর ফলে সোমবার প্রায় ৩০০ ফ্লাইট বাতিল হয়।

টাইফুনটি আরও দূরে সরে যাওয়ায় কানতো অঞ্চলে মঙ্গলবার আবহাওয়ার কিছুটা ভালো হওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। তবে পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব জাপানের প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে বড় ঢেউ ও শক্তিশালী বাতাসের আশঙ্কা রয়েছে। কানতো ও তোহোকু অঞ্চলে ৫ মিটার পর্যন্ত ঢেউ এবং তোহোকুতে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৫ মিটার বেগের বাতাস, দমকা হাওয়ায় প্রবাহিত হতে পারে, বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

 

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad