পরিবেশবান্ধব ক্যাম্পাস গড়তে চবিতে গ্রিন এডুকেশন সামিট অনুষ্ঠিত

পরিবেশবান্ধব ক্যাম্পাস গড়তে চবিতে গ্রিন এডুকেশন সামিট অনুষ্ঠিত
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘গ্রিন এডুকেশন অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি সামিট-২০২৬’। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

পরিবেশবান্ধব ক্যাম্পাস গঠন, টেকসই উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে পরিবেশবাদী সংগঠন ‘আওয়ার গ্রিন ক্যাম্পাস’-এর উদ্যোগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘গ্রিন এডুকেশন অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি সামিট-২০২৬’।

রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ অডিটোরিয়ামে দিনব্যাপী এ সামিট অনুষ্ঠিত হয়।

‘আগামীর সবুজ পৃথিবী গড়তে পরিবর্তনের অংশ হোন’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে পরিবেশ শিক্ষা, সবুজ ক্যাম্পাস, টেকসই উন্নয়ন ও শূন্য বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা করেন শিক্ষক, গবেষক ও পরিবেশ সংশ্লিষ্টরা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক মোহাম্মদ আল-আমীন। বিশেষ অতিথি ছিলেন ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক মোহাম্মদ সালেহ্ জহুর। অনুষ্ঠানে ‘সবুজ ক্যাম্পাসকে জানা ও বোঝা’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আওয়ার গ্রিন ক্যাম্পাসের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দিন।

মূল প্রবন্ধে অধ্যাপক কামাল উদ্দিন বলেন, পরিবেশ রক্ষায় শুধু নীতিমালা তৈরি বা প্রযুক্তির ব্যবহার যথেষ্ট নয়, মানুষের আচরণ ও মানসিকতায় পরিবর্তন আনতে হবে। পরিবেশের সঙ্গে মানুষের ইতিবাচক সম্পর্ক গড়ে তুলতে প্রয়োজন নতুন একটি দর্শন, যা তিনি ‘সবুজ দর্শন’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, বিজ্ঞানী, সমাজবিজ্ঞানী, ব্যবসায়ী ও প্রকৌশলীরা নিজ নিজ জায়গা থেকে পরিবেশ নিয়ে কাজ করছেন। তবে এসব উদ্যোগ কার্যকর করতে হলে পরিবেশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মানুষের আচরণ ও মূল্যবোধেও পরিবর্তন আনতে হবে।

আরও পড়ুন

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ আল-আমীন বলেন, শিক্ষা শুধু জ্ঞান অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; মানুষের চিন্তা ও আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারলে তা প্রকৃত শিক্ষা হিসেবে বিবেচিত হয়। পরিবেশ শিক্ষা মানুষের জীবনযাপন, মূল্যবোধ ও দায়িত্ববোধে পরিবর্তন এনে পরিবেশ সংরক্ষণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি বলেন, উন্নয়নের নামে পরিবেশের ক্ষতি করে ভবিষ্যৎকে অনিশ্চিত করা কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। প্রকৃতির সঙ্গে সংঘাত নয়, বরং সহাবস্থান নিশ্চিত করেই টেকসই উন্নয়ন করতে হবে।

চবির উপউপাচার্য আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বন ও পরিবেশবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট পরিবেশ শিক্ষা ও গবেষণায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ জাতীয় পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রীর স্বর্ণপদক অর্জন করেছে। পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়ন

সামিটে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) ও আওয়ার গ্রিন ক্যাম্পাসের কার্যক্রম নিয়ে একটি অধিবেশন পরিচালনা করেন অধ্যাপক মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন। পরে শূন্য বর্জ্য ক্যাম্পাস বিষয়ে উপস্থাপনা করেন মো. আরিফুর রহমান।

এ ছাড়া ‘টেকসই সবুজ ক্যাম্পাস গড়ে তোলা’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান শামসুদ্দিন ইলিয়াস, অধ্যাপক খাদিজা মিতু, অধ্যাপক মোহাম্মদ শাহাব উদ্দিন, সহযোগী অধ্যাপক এজিএম নিয়াজ উদ্দিন, অধ্যাপক মো. আনোয়ার হোসাইন ও মো. আরিফুর রহমান। আলোচনা সঞ্চালনা করেন অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দিন।

স্বাগত বক্তব্যে আওয়ার গ্রিন ক্যাম্পাসের সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ দূষণ ও প্রাকৃতিক সম্পদের সংকট বর্তমানে বড় চ্যালেঞ্জ। পরিবেশ রক্ষা এখন শুধু সামাজিক দায়িত্ব নয়, বরং ভবিষ্যৎ অস্তিত্ব রক্ষার বিষয়।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী, ছাত্র-ছাত্রী পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক মো. আনোয়ার হোসেন, চাকসুর সাধারণ সম্পাদক সাঈদ বিন হাবিব ও সহসাধারণ সম্পাদক আইয়ুবুর রহমান তৌফিক।

এ সময় সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. এনায়েত উল্যা পাটওয়ারী, বিভিন্ন হলের প্রভোস্টসহ অন্যান্য অতিথিরা।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad