রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) র্যাগিংসহ বিভিন্ন শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনায় ৯৯ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এর মধ্যে ১৮ শিক্ষার্থীকে এক বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। দুজনের আবাসিকতা বাতিল করা হয়েছে। ৭৯ শিক্ষার্থীকে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে।
বুধবার বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত ৫৪৯তম সিন্ডিকেট সভায় শৃঙ্খলা উপকমিটি অভিযোগগুলো প্রমাণসহ উপস্থাপন করে। পরে সিন্ডিকেট উন্মুক্তভাবে পর্যালোচনা করে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দেয়।
শাস্তিপ্রাপ্ত ১৮ শিক্ষার্থীর মধ্যে র্যাগিংয়ের অভিযোগে ১৪ জন। জুনিয়র শিক্ষার্থীর হাতে সিনিয়রের ওপর হামলার ঘটনায় একজনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। লোকপ্রশাসন বিভাগের সভাপতির সিল, স্বাক্ষর ও অফিসিয়াল প্যাড জালিয়াতির অভিযোগে আরও তিন শিক্ষার্থীকে এক বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।
এ ছাড়া দুই শিক্ষার্থীর আবাসিকতা বাতিল করা হয়েছে। ৭৯ শিক্ষার্থীকে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ছাত্রত্ব স্থগিত ১৫ জন, আবাসিকতা বাতিল হওয়া দুইজন ও সিল জালিয়াতির অভিযোগে শাস্তিপ্রাপ্ত তিন শিক্ষার্থীসহ মোট ২০ শিক্ষার্থী ভবিষ্যতে আর আবাসিকতা পাবেন না।
উপাচার্য বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে র্যাগিংয়ের মাত্রা দিন দিন বাড়ছে। তাই আমরা এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছি। আমরা কাউকে চিরতরে ছাত্রত্ব বাতিল করিনি। সর্বোচ্চ এক বছরের জন্য শাস্তি দেওয়া হবে। কেউ আবাসিক শিক্ষার্থী হলে তার আবাসিকতাও বাতিল করা হবে। একই সঙ্গে তার বাবা-মাকে বিষয়টি জানানো হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যাদের সতর্ক করা হয়েছে, তাদের সর্বোচ্চ সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। এরপরও তারা এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। র্যাগিংয়ের বিষয়ে আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স।’


