শিক্ষাক্ষেত্রে মুক্তার অনন্য অবস্থান

শিক্ষাক্ষেত্রে মুক্তার অনন্য অবস্থান
৩০ শিশুর প্রথম পাঠশালা। ছবি: বিপুল আহমদ/ টাইমস
Advertisement
Advertisement

জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার দেওড়া গ্রামের একটি মন্দিরভিত্তিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখন নিম্নআয়ের পরিবারের ৩০ শিশুর জন্য হয়ে উঠেছে তাদের প্রথম পাঠশালা। ২০২৫ সাল থেকে এখানে চার থেকে ছয় বছর বয়সী শিশুদের পড়াচ্ছেন মুক্তা রানী রায়। প্রতিদিন প্রায় আড়াই ঘণ্টা তিনি শিশুদের পড়া, লেখা ও সংখ্যার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। পাশাপাশি নানা শিক্ষামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে তাদের শেখার ভিত্তি গড়ে তুলতে সহায়তা করেন।

শিশুদের জন্য এই বিদ্যালয়টি বাড়ি ও পরিচিত পরিবেশের কাছাকাছি প্রাথমিক শিক্ষা পাওয়ার একটি সুযোগ তৈরি করেছে। এমন অনেক শিশু এখানে পড়তে আসে, যাদের পরিবারের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ সীমিত। ফলে মন্দিরভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠানটি তাদের শিক্ষাজীবনের শুরু করার জন্য একটি সহজলভ্য পরিচিত জায়গায় পরিণত হয়েছে।

এক শিশুকে পাঠ দিচ্ছেন মুক্তা রানী রায়। ছবি: বিপুল আহমদ/ টাইমস

মুক্তা শিশুদের অক্ষর, শব্দ, সংখ্যা ও লেখার প্রাথমিক দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন কার্যক্রমে যুক্ত করেন। এসব কাজ তাদের মনোযোগ, চিন্তাশক্তি ও শেখার আগ্রহ তৈরি করতে সাহায্য করে।

৩০ শিশুকে নিয়ে চলা এই শ্রেণিকক্ষটি দেখতে সাধারণ হলেও গ্রামের জীবনে এর গুরুত্ব কম নয়। প্রতিদিন শিশুরা একসঙ্গে বসে অক্ষর ও সংখ্যা চিনতে শেখে এবং ধীরে ধীরে শিক্ষার প্রাথমিক দক্ষতাগুলো রপ্ত করে। ২০২৫ সালে এখানে পড়ানো শুরু করার পর থেকে মুক্তা তাদের শিক্ষাজীবনের একেবারে শুরুর এই গুরুত্বপূর্ণ সময়টিতে তাদের পাশে রয়েছেন।

দেওড়ার এই বিদ্যালয়টি গ্রামীণ শিক্ষার একটি বড় বাস্তবতাও তুলে ধরে। গ্রামের ছোট শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ অনেক সময় তাদের আশপাশে কী ধরনের ব্যবস্থা রয়েছে তার ওপর নির্ভর করে।

আরও পড়ুন

ছবি: বিপুল আহমদ/ টাইমস

যেসব এলাকায় প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ সহজে পাওয়া যায় না বা সীমিত, সেখানে ছোট স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোই শিশুদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাকেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। এসব জায়গায় পরবর্তী সময়ে আনুষ্ঠানিক শিক্ষার ধাপে যাওয়ার আগে শিশুরা প্রয়োজনীয় মৌলিক দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পায়।

এটি একই সঙ্গে মনে করিয়ে দেয়–শিশু কোথায় বাস করে কিংবা তার পরিবারের আর্থিক অবস্থা কেমন, তা যেন তার শিক্ষার সুযোগ পাওয়ার পথে বাধা না হয়। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় ছোট শিশুদের জন্য সহজলভ্য ও মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ।

মুক্তার প্রতিদিনের কাজের মূল লক্ষ্য একটাই–শিশুদের শেখার ভিতটা শক্ত করে দেওয়া।

ছবি: বিপুল আহমদ/ টাইমস

আর শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিদিনের ওই আড়াই ঘণ্টা শুধু পড়াশোনার সময় নয়। এটি অক্ষর চেনা, লেখা-শেখা, সংখ্যা গোনা এবং নতুন কিছু জানার আনন্দে নিজেদের গড়ে তোলার সময়।

দেওড়ার এই মন্দিরভিত্তিক বিদ্যালয় তাই কেবল একটি শ্রেণিকক্ষ নয়। ৩০ শিশুর শিক্ষাজীবনের প্রথম অধ্যায় লেখা হচ্ছে এখানে। একটি ছোট্ট ঘর থেকে শুরু হচ্ছে তাদের শিক্ষিত হয়ে ওঠার দীর্ঘ যাত্রা।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad