রাজধানীর বারিধারায় বেপরোয়া গতিতে ফুটপাতে গাড়ি উঠিয়ে নির্মাণ শ্রমিক নিহতের ঘটনায় করা মামলায় নয় লাখ টাকায় আপস করেছে নিহতের পরিবার। গাড়িচাপায় নিহত মেহেদী হাসান মিমের দাফন-কাফন ও ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার জন্য এক লাখ টাকা এবং তার বৃদ্ধ বাবা-মায়ের ভবিষ্যৎ প্রয়োজন বিবেচনায় আরও আট লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার এসব তথ্য জানিয়েছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. আলমগীর হোসেন।
এদিন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. আব্দুল মোক্তাদিরের আদালতে অভিযুক্ত কিশোর আযানআলী শারীফকে হাজির করা হয়। বেলা ১২টা ২৫ মিনিটে তাকে আদালতে আনা হয়।
শুনানি শুরুর আগেই আসামিপক্ষের আইনজীবী সাংবাদিকদের জানান, দুই পক্ষের মধ্যে নয় লাখ টাকায় আপস হয়েছে।
আপসনামা অনুযায়ী, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মোট নয় লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মামলাটি প্রচলিত আইন ও আদালতের বিধি-বিধান অনুযায়ী নিষ্পত্তি বা প্রত্যাহারের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় আইনগত সহযোগিতা করার কথা উল্লেখ রয়েছে।
একইসঙ্গে আপসনামায় মামলাটি আদালতের এখতিয়ার ও প্রচলিত আইনের অধীনেই নিষ্পত্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে ,গত ২২ সেপ্টেম্বর বিকাল ৫টার দিকে গুলশান থানাধীন বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক এলাকার ১ নম্বর সড়কে দুর্ঘটনাটি ঘটে। দ্রুতগতির একটি প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফুটপাতে উঠে গেলে সেখানে অবস্থানরত নির্মাণ শ্রমিক মেহেদী হাসান মিমকে চাপা দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, দুর্ঘটনার পর গাড়ির চালকের আসন থেকে অভিযুক্ত কিশোর আযানআলী এবং অন্য পাশ থেকে মধ্যবয়সী এক ব্যক্তি নেমে আসেন। ঘটনার পরপরই ক্ষুব্ধ জনতা কিশোরটিকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছিলেন।
তবে ওই রাতে মব থেকে রক্ষা ও জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে স্বজনদের জিম্মায় ছেড়ে দিয়েছিল পুলিশ। পরবর্তীতে ফুটেজ পর্যালোচনার ভিত্তিতে তাকে আবার হেফাজতে নেওয়া হয়।


