ড্রোনের আকাশে দেশের নতুন অর্জন, বিশ্বে চতুর্থ ইউআইইউ

ড্রোনের আকাশে দেশের নতুন অর্জন, বিশ্বে চতুর্থ ইউআইইউ
ছবি: ইউআইইউয়ের সৌজন্যে
Advertisement
Advertisement

আকাশে উড়ল ড্রোন, আর তার সঙ্গে বিশ্বমঞ্চে উড়ল বাংলাদেশের পতাকা। যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক স্টুডেন্ট আনম্যানড এরিয়াল সিস্টেমস (এসইউএএস) ২০২৬ প্রতিযোগিতায় প্রথমবার অংশ নিয়েই বিশ্বে চতুর্থ স্থান অর্জন করেছে বাংলাদেশের ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ইউআইইউ) এরিয়াল রোবোটিক্স টিম (ইউএআরটি)। এর মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক এসইউএএস প্রতিযোগিতার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো বাংলাদেশি দল পোডিয়ামে জায়গা পেল।

বুধবার রাজধানীর মাদানি অ্যাভিনিউয়ের নিজস্ব ক্যাম্পাসে দলটিকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

এর আগে, গত ১৪ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমা অঙ্গরাজ্যের টালসায় অবস্থিত স্কাইওয়ে রেঞ্জে অনুষ্ঠিত হয় এবারের আন্তর্জাতিক এসইউএএস প্রতিযোগিতা। প্রতিযোগিতায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ৮১টি দল। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে ২১টি দলের ড্রোন ওড়ার পর বাতাসেই ক্র্যাশের শিকার হয়। তবে কৌশলগত ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার মাধ্যমে সফলভাবে মিশন সম্পন্ন করে চতুর্থ স্থান অর্জন করে ইউআইইউ এর এরিয়াল রোবোটিক্স টিম।

বিজয়ী দলের অন্যতম সদস্য এবং ইউআইইউ এর কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী চমক টাইমসকে বলেন, ‘দেশে ড্রোন ওড়ানো আর যুক্তরাষ্ট্রে তীব্র বাতাসে ড্রোস ওড়ানোর মধ্যে পার্থক্য আছে। রীতিমতো ৪০ থেকে ৪৫ কিলোমিটার বেগে বাতাসের ধাক্কা আসছিল কিছুক্ষণ পরপর। এ কারণে অনেকের ড্রোন ওড়ানোর পর বাতাসের ধাক্কায় ভেঙে গেছে। ড্রোন ওড়ানোই চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘এসইউএএস-এর মতো প্রতিযোগিতায় প্রযুক্তিগত সক্ষমতার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে ড্রোন পরিচালনা, নির্দিষ্ট মিশন সম্পন্ন করা, পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং দলের সদস্যদের সমন্বিতভাবে কাজ করার দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ। এবারের প্রতিযোগিতায় আমরা যে সাফল্য অর্জন করেছি ভবিষ্যতে তা অনেকের জন্য অনুপ্রেরণা হবে।’

আরও পড়ুন

ছবি: ইউআইইউয়ের সৌজন্যে

বিজয়ী দলের আরেক সদস্য ফয়সল বলেন, ‘রোবোটিক্স নিয়ে গবেষণার জন্য অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম বিদেশ থেকে আনতে হয়। দেশে এসব সরঞ্জাম সহজলভ্য হলে শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবেন, গবেষণার জন্য উৎসাহ পাবেন।

ইউএআরটি-এর মেন্টর ও ইউআইইউ-এর কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রিয়াসাত আজিম বলেন, ‘আন্তর্জাতিক এ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা বাস্তব সমস্যা সমাধান, দলগত নেতৃত্ব এবং উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে।’

যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল ও মোনাস ইউনিভার্সিটির মতো বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিযোগিদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে এই অর্জনকে মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করছেন তিনি।

ইউআইইউ উপাচার্য মো. আবুল কাশেম মিয়া বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের এই সাফল্য তাদের মেধা, কঠোর পরিশ্রম, উদ্ভাবনী চিন্তা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার বহিঃপ্রকাশ। গবেষণা, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার প্রসারে ইউআইইউ-এর প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’

ড্রোন ওড়ানোর এই প্রতিযোগিতায় যাওয়ার প্রস্তাবনা শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকেই এসেছিল বলেও জানান তিনি। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ভবিষ্যতেও আরও নতুন নতুন প্রস্তাবনা পাবেন বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন এই উপাচার্য।

তিনি আরও বলেন, ‘এই সাফল্যের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ড্রোন ও এরিয়াল রোবোটিক্স নিয়ে কাজের সম্ভাবনা নতুন করে সামনে এসেছে। আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের একটি বিশ্ববিদ্যালয় দলের এমন ফল তরুণ শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিনির্ভর গবেষণা ও উদ্ভাবনে আরও আগ্রহী করে তুলবে।’

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad