চট্টগ্রামের চকবাজার থানার চন্দনপুরা এলাকায় ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল ডট নেট (ডিডিএন) কার্যালয়ে চাঁদা দাবির জেরে সংঘবদ্ধ হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় আরও পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি)।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে হামলাকারীদের বহনে ব্যবহৃত অ্যাম্বুলেন্সের চালকও রয়েছেন। একই সঙ্গে হামলায় ব্যবহৃত ওই অ্যাম্বুলেন্সটি জব্দ করা হয়েছে।
রোববার বিকালে চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর হোসেন মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
গ্রেপ্তার পাঁচজন হলেন শাহাদাত হোসেন শাকিল (২৭), শাহ জালাল শান্ত ওরফে শান্ত (২৫), মো. জাহাঙ্গীর আলম ওরফে কামাল (৪২), মোহাম্মদ আজিজ উল্লাহ ওরফে আমিন (৪০) এবং মো. মহিউদ্দিন (৩১)। এদের মধ্যে মো. মহিউদ্দিন হামলাকারীদের বহনে ব্যবহৃত অ্যাম্বুলেন্সটির চালক বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, গত ১১ জুলাই হোয়াটসঅ্যাপে কল করে নিজেকে ‘ডেভিড ইমন’ পরিচয় দিয়ে ডিডিএনের স্বত্বাধিকারীর কাছে এককালীন দুই কোটি টাকা এবং পরে প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়।
এর ধারাবাহিকতায় ১৩ জুলাই দুপুরে ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি দল চকবাজার থানার চন্দনপুরা এলাকার মনুমিয়াজী লেনে মরিয়ম হাইটস ভবনের তৃতীয় তলায় অবস্থিত ডিডিএনের কার্যালয়ে হামলা চালায়।
হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কার্যালয়ে ঢুকে কম্পিউটার, ল্যাপটপ, প্রিন্টার, ফিঙ্গারপ্রিন্ট মেশিন, আসবাবপত্র ও কাচের দরজাসহ বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুর করে। এতে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়।
এ ছাড়া অফিস থেকে নগদ ৪৭ হাজার টাকা, তিনটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, একটি ক্যানন প্রিন্টার এবং কর্মচারীদের বেতনের জন্য রাখা প্রায় ৩৫ লাখ টাকা থাকা একটি ব্যাগ লুট করা হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর হওয়া মামলার তদন্তে নেমে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়। সর্বশেষ অভিযানে শাহাদাত হোসেন শাকিল, শাহ জালাল শান্ত, জাহাঙ্গীর আলম ওরফে কামাল, আজিজ উল্লাহ ওরফে আমিন এবং অ্যাম্বুলেন্সচালক মো. মহিউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই সঙ্গে রাউজান উপজেলা থেকে হামলায় ব্যবহৃত অ্যাম্বুলেন্সটি জব্দ করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার হাবিবুর রহমান প্রামাণিক বলেন, এ নিয়ে এ ঘটনায় পুলিশ ও র্যাবের অভিযানে মোট ২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।


