কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে যানবাহন চলাচলে বিধিনিষেধ থাকলেও প্রকাশ্যেই চলছে সিএনজিচালিত অটোরিকশা। স্থানীয়দের অভিযোগ, সংশ্লিষ্টদের ‘ম্যানেজ’ করে দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পের বিভিন্ন সড়কে এসব যানবাহন চলাচল করছে। এরই মধ্যে দুটি সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে নয়জন আহত হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক রোহিঙ্গা মারা গেছেন। শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উখিয়া উপজেলার ১৮ নম্বর রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের এফ-৩০ ব্লকের তিন মোয়া নামক স্থানে (ত্রিমুখী সড়কে) এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত রোহিঙ্গার নাম মোহাম্মদ হাশিম (৩৪)। তিনি ১৭ নম্বর রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের এইচ-৭৫ ব্লকের বাসিন্দা এবং নুর আলমের ছেলে। তাৎক্ষণিকভাবে অন্য আহতদের নাম পরিচয় জানা যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সকালে ১৮ নম্বর রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের এফ-৩০ ব্লকের তিন মোয়ায় (ত্রিমুখী সড়কে) দুটি সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে দুই গাড়ির চালক ও যাত্রীসহ নয়জন আহত হন। খবর পেয়ে ময়নারঘোনা পুলিশ ক্যাম্পের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে ক্যাম্পসংলগ্ন এমএসএফ হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোহাম্মদ হাশিম মারা যান।
এদিকে রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের ভেতরে যানবাহন চলাচলে নিয়ন্ত্রণ ও বিধিনিষেধ থাকলেও বিভিন্ন সড়কে নিয়মিত সিএনজি চলাচলের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, অনুমোদনহীন এসব যানবাহন দিনের পাশাপাশি রাতেও ক্যাম্পের বিভিন্ন সড়কে চলাচল করে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) কিছু সদস্যকে নিয়মিত ‘মাসোহারা’ দিয়ে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সিএনজি চলাচল করছে। তাদের ভাষ্য, ক্যাম্পের সরু ও ব্যস্ত সড়কে এভাবে অনিয়ন্ত্রিত যানবাহন চলাচলের কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। শনিবারের দুর্ঘটনাকেও তারা অনিয়ন্ত্রিত যান চলাচলের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করছেন।
তবে এপিবিএন এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ময়নারঘোনা পুলিশ ক্যাম্পের এপিবিএনের ইন্সপেক্টর মো. নাহিদ বলেন, ‘১৮ নম্বর রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের এফ-৩০ ব্লকে দুটি সিএনজির মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় কয়েকজন আহত হয়েছেন। তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজন মারা গেছেন। বিষয়টি আমরা নিশ্চিত হয়েছি। দুর্ঘটনার পর প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’
ক্যাম্পের ভেতরে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সিএনজি চলাচল এবং এ জন্য এপিবিএনের কোনো সদস্যকে মাসোহারা দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইন্সপেক্টর মো. নাহিদ বলেন, ‘মাসোহারা নিয়ে অবৈধভাবে সিএনজি চলাচলের অভিযোগ সঠিক নয়। এ ধরনের কোনো বিষয় আমাদের জানা নেই।’


