চার বছর আগে কাতার বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে ফুটবল ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় অঘটনের জন্ম দিয়েছিল সৌদি আরব। এবার ২০২৬ সালের বিশ্বকাপেও নিজেদের প্রথম ম্যাচে ঠিক তেমনই এক সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলেছিল তারা।
উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচের ৪১ মিনিটে এগিয়ে গিয়ে সেই লিড খেলার ৭৯ মিনিট পর্যন্ত অক্ষুণ্ণ রেখেছিল তারা। তবে এবার আর শেষ পর্যন্ত জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারেনি মরুর দেশটি। ৮০ মিনিটে মাক্সিমিলিয়ানো আরাউহোর গোলে সমতা ফেরায় উরুগুয়ে। ফলে ১-১ সমতাতেই শেষ হয় মাঠের লড়াই।
মায়ামি স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার মাঝরাতে হওয়া ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। প্রথমার্ধে আবদুল্লাহ আল আমরির চমৎকার এক গোলে লিড নিয়েছিল সৌদি আরব। তবে দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাক্সিমিলিয়ানো আরাউহোর গোল ল্যাটিন আমেরিকার পরাশক্তি উরুগুয়েকে নিশ্চিত পরাজয়ের হাত থেকে রক্ষা করে।
ম্যাচের চূড়ান্ত স্কোরকার্ডে দুই দলের সমতা থাকলেও মাঠের খেলায় কিন্তু পরিষ্কারভাবে এগিয়ে ছিল উরুগুয়ে। শুরু থেকে শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা সৌদির রক্ষণভাগে মুহুর্মুহু আক্রমণ চালায়। বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধের ইনজুরি টাইমে তারা অন্তত চারটি প্রাণপণ আক্রমণ করেছিল, কিন্তু জয়সূচক গোলটি আর পাওয়া হয়নি তাদের।
পুরো ম্যাচ জুড়েই উরুগুয়ের এই একের পর এক আক্রমণকে নস্যাৎ করার মূল কৃতিত্ব সৌদি আরবের রক্ষণভাগ ও তাদের গোলরক্ষকের। প্রথমার্ধে গোল করার পাশাপাশি ম্যাচ জুড়ে দুর্দান্ত ডিফেন্ডিংয়ের এক অনন্য প্রদর্শনী দেখিয়েছে সৌদি আরব। আর চার বছর আগে আর্জেন্টিনাকে রুখে দেওয়া সৌদির সেই চেনা গোলকিপার মোহাম্মেদ আল ওয়াইস এদিনও এককথায় দুর্বার।
পুরো ম্যাচে উরুগুয়ের অনবদ্য নয়টি নিশ্চিত শট একাই ঠেকিয়ে দেন তিনি। মূলত তার এই অতিমানবীয় পারফরম্যান্সের ওপর ভর করেই উরুগুয়ের কাছ থেকে মূল্যবান একটি পয়েন্ট ছিনিয়ে নিতে পেরেছে এশিয়ার এই লড়াকু দলটি।


