জুলাইসহ ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের অবদানের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দাবি করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের ত্যাগকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দিতে হবে।
জুলাই বিপ্লবে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের সাহস, ত্যাগ ও অবদানকে স্মরণ করতে রাজধানীর বিএমএ ভবন মিলনায়তনে ‘জুলাইয়ের রক্তাক্ত জুব্বা: মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের অবদান’ শীর্ষক সেমিনার আয়োজন করে ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্স।
সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ‘গত কয়েক দশক ধরে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের জুব্বা রক্তাক্ত হয়েছে। বাংলাদেশে নয় পৃথিবী জুড়ে। এ জুব্বা বিদ্রোহ এবং লড়াইয়ের প্রতীক। সরকারের কাছে আমরা দাবি জানাচ্ছি, মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের ত্যাগকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দিতে হবে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, জুলাই নিয়ে ব্যবসা করা যাবে না। জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা পরিবর্তন। আমরা এই পরিবর্তনের কথা বলতে গেলে জুলাই চেতনা বিক্রি বলছে। জুলাই কেউ বিক্রি করছে না। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলে গত পঞ্চাশ বছর আওয়ামী লীগ এদেশে গণতন্ত্র হত্যা করেছে। গুম, খুনের রাজনীতি করেছে। দেশের টাকা লুটপাট করেছে। সেই চেতনার কথাই বিএনপির কাছে সবচেয়ে বেশি শুনি।’
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘জুলাইয়ে আমাদের আকাঙ্ক্ষা ছিল, জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতি ছিল নতুন বাংলাদেশ, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ। প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার। এ সংস্কারের কথাকে জুলাইয়ের চেতনা বলছে। কিন্তু জনগণ জানে জুলাইয়ের ফলে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পেয়েছে বিএনপি। তারেক রহমান লন্ডন থেকে দেশে এসেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শিলং থেকে ফেরত এসেছেন। বিএনপি দায়িত্বহীন ক্ষমতা পেয়েছে। আমরা পেয়েছিলাম ক্ষমতাহীন দায়িত্ব। সংবিধান সংস্কার আদেশ যদি অবৈধ হয় সে আদেশ দেওয়া রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন না। নির্বাচন কমিশনার শপথ পড়িয়েছেন তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা কেন গ্রহণ করা হচ্ছে না।’
সেমিনারে প্রধান আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন রাষ্ট্র চিন্তক ফরহাদ মজহার, চিন্তক মুসা আল হাফিজ, এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন সহ বিভিন্ন ইসলামী সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।


