টাইমস অব বাংলাদেশ-এ প্রতিবেদন প্রকাশের পর বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের দুই কর্মকর্তাকে দেওয়া বিতর্কিত অনাপত্তিপত্র সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
একই সঙ্গে, দুদকের মামলার এজাহারভুক্ত দুইজন আসামির বিরুদ্ধে কীভাবে ‘কোনো মামলা নেই’ বলে সরকারি চিঠি দেওয়া হয়েছিল, সেটিও তদন্ত করে দেখছে সংস্থাটি।
দুদকের মহাপরিচালক (মানি লন্ডারিং) মোকাম্মেল হক গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ওই দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা থাকার তথ্য উল্লেখ করে সংশোধিত চিঠি আবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘বিষয়টি কীভাবে ঘটেছে, সেটাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’
এর আগে মঙ্গলবারে টাইমস অব বাংলাদেশ প্রকাশিত প্রতিবেদনে উঠে আসে, কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণ ও ভবন নির্মাণ প্রকল্প থেকে প্রায় ১৫০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের করা মামলার ৯ নম্বর আসামি আমিনুল হাসিব। অথচ প্রায় ১৩ মাস পর তার পদোন্নতি-সংক্রান্ত যাচাইয়ের জবাবে দুদকই লিখিতভাবে জানায়, তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা তদন্তাধীন বা বিচারাধীন নেই।
দুদকের সেই চিঠির সাড়ে তিন মাস পর গত ৩০ জুন বেবিচক আমিনুল হাসিবকে নির্বাহী প্রকৌশলী থেকে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, গ্রেড-৪ পদে পদোন্নতি দেয়।
ওই একই চিঠিতে বেবিচকের আরেক প্রকৌশলী মইদুর রহমান মওদুদকেও অনাপত্তিপত্র দিয়েছিল দুদক। অথচ তার বিরুদ্ধেও একই মামলা চলমান রয়েছে।
কক্সবাজার বিমানবন্দর প্রকল্পের প্রায় ১৫০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলাটি করেন দুদকের সহকারী পরিচালক এস এম রাশিদুল হাসান। এতে আমিনুল হাসিব ও মইদুর রহমানসহ মোট ১২ জনকে আসামি করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়, রানওয়ে সম্প্রসারণ ও ভবন নির্মাণ প্রকল্পে ক্ষমতার অপব্যবহার, ক্রয়বিধি লঙ্ঘন, প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধি এবং পছন্দের ঠিকাদারকে সুবিধা দেওয়ার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।
টাইমস-এর প্রতিবেদনে আরও উঠে আসে, দুদকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যোগসাজশে বিশেষ সুবিধার বিনিময়ে এই অনাপত্তিপত্র দেওয়া হয়েছে।
সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ প্রকল্প থেকেও ২১২ কোটি টাকার বিল তুলে নিয়ে আত্মগোপন করার অভিযোগে মামলা আছে তাদের বিরুদ্ধে।
এই দুই মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সামরিক উপদেষ্টা তারেক আহমেদ সিদ্দিকসহ ১২ জন আসামী রয়েছেন।


