মেজবাউর রহমান সুমন পরিচালিত ‘হাওয়া’-তে নাজিফা তুষি ছিলেন বেদেকন্যা গুলতি। চরিত্রটিতে অনবদ্য অভিনয় করেছিলেন। এবারের ঈদে একই পরিচালকের ‘রইদ’-এ দেখা যাবে তাকে।
সিনেমাটির পোস্টার, টিজার, ট্রেলারে তাকে দেখা গেছে নাম ও গ্ল্যামারবিহীন এক চরিত্রে। এ চরিত্রের জন্য তার যে সংগ্রাম, ত্যাগ— তা এক কথায় অবিশ্বাস্য। কেবল লুকে বদল আনাই নয়, চরিত্রের মনস্তত্ত্ব ধারণ করতে দীর্ঘ সময় প্রসাধনহীন জীবন কাটিয়েছেন তিনি।
উষ্কখুষ্ক চুল, হলদেটে দাঁত, রোদে পোড়া ত্বক— এমন লুক আনার জন্য ছয় মাস কোনো ধরনের শ্যাম্পু, সাবান বা কন্ডিশনার ব্যবহার করেননি। তিনি চেয়েছিলেন তার ত্বকের রোমকূপগুলো উন্মুক্ত হোক এবং মুখে মেছতার মতো ছোপ তৈরি হোক।
সিনেমায় মেকআপ ব্যবহার করে কালো হওয়া সহজ, কিন্তু তুষি বেছে নিয়েছিলেন কঠিন পথ। তিনি জানান, শুটিং এলাকায় বৃষ্টির মধ্যে দৌড়াদৌড়ি করলে বা ঘামলে মেকআপ ধুয়ে যাওয়ার ভয় থাকে, তাতে আসল ত্বক বেরিয়ে আসতে পারে। তাই তিনি প্রাকৃতিকভাবে ত্বক পুড়িয়ে কালো হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এজন্য শরীরে বাচাইকৃত লাল সরিষার দানা থেকে তৈরি কোল্ড প্রেসড তেল মেখে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রোদে বসে থাকতেন। এই তেল মেখে রোদে গেলে ত্বক দ্রুত পুড়ে যায় এবং তিনি চেয়েছিলেন তার চামড়া পুড়ে যেন কয়লার মতো দেখায়।
চরিত্রের প্রয়োজনে তুষিকে পান খাওয়ার অভ্যাস করতে হয়েছিল। পানের দাগ এবং দাঁতের টেক্সচার আনার জন্য তিনি সাধারণ চুন নয়, বরং ওই অঞ্চলের মানুষের মতো ‘পাথরের চুন’ খেতেন। এই চুন খাওয়ার কারণে প্রায়ই তার মুখ ও জিহ্বা পুড়ে যেত এবং কথা বলতে কষ্ট হতো। তুষি জানান, এই কষ্টকর অভ্যাসটি তিনি করেছিলেন কেবল চরিত্রটিকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার জন্য।
তুষি কেবল তার শরীরকেই পরিবর্তন করেননি, যাপন করেছেন শ্রমিকের জীবন। শুটিংয়ের জন্য তৈরি করা মাটির ঘরটি বানাতে তিনি নিজে স্থানীয়দের সঙ্গে শ্রম দিয়েছেন। টিলার ওপর মাটি তোলা, গাছ লাগানো—সবই করেছেন নিজ হাতে। এমনকি চরিত্রের পোশাকের জন্য তিনি ‘টুকের বাজার’ থেকে সাধারণ মানুষের ব্যবহৃত পুরোনো কাপড় কিনে পরেছেন। তার লক্ষ্য ছিল, দশজন সাধারণ মানুষের মাঝে দাঁড়ালে যেন তাকে আলাদা করে চেনা না যায়।
তার কাছে অভিনয় কেবল কাজ নয়, এটি একটি নেশার মতো। তিনি মনে করেন, নিজের চিরচেনা জীবন থেকে ছুটি নিয়ে অন্য একটি চরিত্রে বাস করাই তার আসল আনন্দ। ‘রইদ’ সিনেমার শুটিংয়ের সময় প্রচণ্ড তাপে মাইগ্রেনের ব্যাথায় কষ্ট পেলেও তিনি পিছু হটেননি। অভিনেতা মোস্তাফিজুর নূর ইমরান এবং পুরো টিমের সঙ্গে মিলে তিনি যে পরিশ্রম করেছেন, তা দর্শকদের সামনে আসবে সিনেমাটি মুক্তির পর।


