জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে নতুন ধারা বাংলাদেশ (এনডিবি) ও রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের (এসডিএফ) নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহতদের মধ্যে এনডিবির ভাইস চেয়ারম্যান শান্তা ফারজানা এবং এসডিএফের সদস্য সচিব আ ন ম আয়াস রয়েছেন।
পরবর্তীতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ভেতরেও দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে, যা পুরো হাসপাতাল এলাকায় তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি করে।
একপর্যায়ে শান্তা ফারজানাকে হাসপাতালে অবরুদ্ধ করে তার দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি তোলেন বিরোধীরা।
জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে গত ১ আগস্ট শান্তা ফারজানাকে মারধরের প্রতিবাদে নতুন ধারা বাংলাদেশের উদ্যোগে বিক্ষোভ কর্মসূচি চলছিল।
এ সময় এসডিএফ নেতা আ ন ম আয়াসসহ কয়েকজন সেখানে গেলে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয় এবং দুই পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন।
ঘটনার বিষয়ে এসডিএফ নেতাদের অভিযোগ, সন্ধ্যার দিকে প্রেস ক্লাবের সামনে কর্মসূচি চলাকালে শান্তা ফারজানা জুলাই যোদ্ধাদের ও প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করছিলেন।
তারা এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাতে গেলে শান্তা ফারজানার সমর্থকেরা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
অন্যদিকে, নতুন ধারা বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মোমিন মেহেদী জানান, গত ১ আগস্ট শান্তা ফারজানাকে মারধরের প্রতিবাদেই তারা প্রেস ক্লাবের সামনে বিক্ষোভ করছিলেন এবং সেখানে অনেক সাংবাদিকও উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় হঠাৎ করে আ ন ম আয়াস তার লোকজন নিয়ে এসে তাদের ওপর হামলা চালায়, যাতে তাদের নেত্রী শান্তা ফারজানাসহ বহু নেতাকর্মী আহত হন।
ঘটনার পর মঞ্চ ২৪-এর আহ্বায়ক ফাহিম ফারুকী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে স্লোগান দিয়ে দাবি জানান, শান্তা ফারজানা প্রেস ক্লাবের সামনে দাঁড়িয়ে জুলাই যোদ্ধাদের ও প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে গালাগাল করেছেন। তাই হাসপাতাল থেকেই তাকে দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে এবং গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত তারা হাসপাতাল ছেড়ে যাবেন না।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ পুলিশ ক্যাম্পের পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দুই পক্ষের হট্টগোলের কারণে প্রায় দেড় ঘণ্টা চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হয়, যা রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে চরম আতঙ্কের সৃষ্টি করে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বর্তমানে এক পক্ষ হাসপাতালের বাইরে এবং অপর পক্ষ ভেতরে অবস্থান নেয়। পরে শান্তা ফারজানাসহ ছয়জনকে হেফাজতে নেয় শাহবাগ থানা-পুলিশ।
বাকিরা হলেন এনডিবির চেয়ারম্যান মোমিন মেহেদী, ভাইস চেয়ারম্যান নুরজাহান নীরা যুগ্ম মহাসচিব মনির জামান এবং সাংগঠনিক সম্পাদক আতাপ মন্ডল ও হরিদাস সরকার।


