বিশ্বজুড়ে আবারও চলছে স্পাইডার-ম্যান উন্মাদনা। মুক্তির প্রথম সপ্তাহেই বক্স অফিসে ৯২৭ মিলিয়ন ডলার আয় করে ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উদ্বোধনী আয়ের রেকর্ড গড়েছে ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’। যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক, দুই বাজার মিলিয়েই চলচ্চিত্রটি সর্বকালের দ্বিতীয় বৃহত্তম ওপেনিং উইকেন্ডের কৃতিত্ব পেয়েছে।
টম হল্যান্ড অভিনীত স্পাইডার-ম্যান সিরিজের চতুর্থ কিস্তি চলচ্চিত্রটি যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় মুক্তির প্রথম তিন দিনেই আয় করেছে ৩৫৫ মিলিয়ন ডলার। দেশটির বক্স অফিস ইতিহাসে এর চেয়ে বড় উদ্বোধনী আয় রয়েছে শুধু ২০১৯ সালের ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’-এর। চলচ্চিত্রটি প্রথম সপ্তাহান্তে আয় করেছিল ৩৫৭ মিলিয়ন ডলার।
আন্তর্জাতিক বাজারেও ছিল ‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’র একচ্ছত্র আধিপত্য। উত্তর আমেরিকার বাইরে চলচ্চিত্রটির আয় ৫৭২ মিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে একক বাজার হিসেবে চীন থেকেই এসেছে ১২১ মিলিয়ন ডলার। অস্ট্রেলিয়ায় ৩০ দশমিক ৪ মিলিয়ন ডলার আয় করে এটি ২০২৬ সালের সবচেয়ে বড় উদ্বোধনী আয়ের ছবির স্বীকৃতিও পেয়েছে।
এই সাফল্যের মধ্য দিয়ে সর্বকালের সর্বোচ্চ উদ্বোধনী আয়ের তালিকায় আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে মার্ভেল স্টুডিওস। তালিকার শীর্ষে রয়েছে ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’ (১ দশমিক ২২ বিলিয়ন ডলার)। দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’ (৯২৭ মিলিয়ন ডলার)। এরপর রয়েছে ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ইনফিনিটি ওয়ার’ (৬৪০ মিলিয়ন ডলার) এবং ‘স্পাইডার-ম্যান: নো ওয়ে হোম’ (৬০০ মিলিয়ন ডলার)।
শুধু বক্স অফিস নয়, সমালোচক ও দর্শকদের প্রশংসাও কুড়িয়েছে সিনেমাটি। রটেন টমেটোজে চলচ্চিত্রটি সমালোচকদের কাছ থেকে ৯০ শতাংশ এবং দর্শকদের কাছ থেকে ৯৮ শতাংশ রেটিং পেয়েছে।
‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’র এই দুর্দান্ত সাফল্যে চাঙা হয়ে উঠেছে হলিউডের বক্স অফিস। এর আগে ‘টয় স্টোরি ৫’ ও ‘দ্য ওডিসি’ দর্শকদের উল্লেখযোগ্য সাড়া পেয়েছিল। বিশ্লেষকদের মতে, ‘দ্য ওডিসি’র সাফল্যের ধারাবাহিকতায় মুক্তি পাওয়ায় নতুন স্পাইডার-ম্যান চলচ্চিত্রটি বাড়তি গতি পেয়েছে। একই সঙ্গে টম হল্যান্ড, জেনডায়া ও জন বার্নথালের উপস্থিতিও দর্শকদের আগ্রহ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
মার্ভেলের জন্য এটি শুধু আরেকটি বাণিজ্যিক সাফল্য নয়, বরং প্রেক্ষাগৃহে দর্শক ফেরানোর লড়াইয়ে বড় এক জয় বলেই মনে করছেন হলিউড বিশ্লেষকেরা।


